জীবননগর মাধবখালীতে সরকারি রাস্তা দখল করে গড়েতোলা হয়েছে বাগান, এলাকাবাসীর চলাচলে দুর্ভোগ

জীবননগর অফিস

জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবখালী গ্রামে ব্রিটিশ আমলের দুটি সরকারি রাস্তার জমি দখল করে ধান চাষ ও আমবাগান গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মনিরুল গং এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পথচারী, কৃষক, মসজিদের মুরসল্লি, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি উপজেলা ভূমি অফিস আর এস ম্যাপের নকশা অনুযায়ী রাস্তার জমি পরিমাপ করে সীমানা পিলার স্থাপন করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা রাতের আঁধারে সেই পিলার অপসারণ করে চলতি মৌসুমে পুনরায় রাস্তার জমিতে ধান রোপণ করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। মাধবখালী গ্রামের প্রয়াত নুর ইসলাম (ইসলাম)-এর ছেলে মনিরুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম স্থানীয় ভাবে তারা বেশ প্রভাবশালী। এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাস্তার জমি দখল করে কোথাও আমবাগান এবং কোথাও কৃষিজমি হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে কৃষকদের মাঠে যাতায়াত ও ফসল পরিবহনে অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। রাস্তা দু’টি উদ্ধারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দু’দফায় উপজেলা প্রশাসন বরাবর গণপিটিশন দেয়া হয়েছে।
মাধবখালী গ্রামের সাবেক সেনা সদস্য আনোয়ার হোসেন ও হায়দার আলী জানান, খানপাড়া জামে মসজিদ থেকে মাঠ পর্যন্ত রেকর্ডভুক্ত সরকারি রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে সেখানে বিভিন্ন ধরনের চাষাবাদ করা হচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলা ভূমি অফিস রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করে পিলার স্থাপন করলেও তা রাতের আঁধারে তুলে ফেলা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। রাস্তাটি অবমুক্ত করা গেলে সীমান্তরক্ষী বিজিবির চলাচলও সহজ হবে। পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের সরকারি রাস্তার অংশও দখল করে রাখা হয়েছে। ফলে স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মাধবখালী গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা রাজেদুল ইসলাম বলেন, সরকারি রাস্তা দখল হয়ে থাকায় কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে অনেক পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা উদ্ধারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। সম্প্রতি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার পর অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। মাধবখালী পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ ও মাধবখালী রেসালাতুল কোরআন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিন্টু মিয়া বলেন, মসজিদ ও মাদ্রাসার পাশের সরকারি রাস্তা দখল হয়ে যাওয়ায় মরুসল্লি ও শিক্ষার্থীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামবাসী সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে রাস্তা দখলমুক্ত করার দাবিতে গণস্বাক্ষর সংবলিত আবেদন জমা দিয়েছেন।
মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট দু’টি ওয়ার্ডের মেম্বার জমির উদ্দিন ও তৌফিকুর রহমান টিটো বলেন, সরকারী রেকর্ডভুক্ত ও ম্যাপের রাস্তা জোরপূর্বক দীর্ঘদিন দখল করে ধান চাষ ও বাগান গড়ে তুলেছে। এলাকাবাসী তাদেরকে রাস্তাটি অবমুক্ত করতে বললে তাদের সাথে মারমুখি আচরন করে থাকে।
এ বিষয়ে কামরুল ইসলাম এর সাথে কথা বললে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা বাপ-দাদার আমল থেকেই জমি ভোগদখল করে আসছি। আমাদের পূর্বপুরুষেরা স্থানীয় হিন্দু (মুচি) সম্প্রদায়ের কাছ থেকে রাস্তাসহ জমি ক্রয় করেছিলেন। তাই আমরা নিজেদের বৈধ মালিক মনে করি। আমরা অবৈধ দখলদার নই। জীবননগর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সজিব হোসেন বলেন, সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী মাধবখালী মৌজার আর এস ম্যাপের ২ নম্বর শিটের ১ নম্বর খতিয়ানের ৯০৩, ১৩৭৮ ও ১৩৮৪ নম্বর দাগ এবং ধোপাখালী মৌজার আর এস ম্যাপের ১ নম্বর শিটের ১ নম্বর খতিয়ানের ১৫০ ও ৯৫ নম্বর দাগভুক্ত মোট সরকারি রাস্তার জমি সরকারি আর এস ম্যাপের নকশা অনুযায়ী সম্প্রতি পরিমাপ করে ৭৯ শতক রাস্তার জমির সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে। পরিমাপের সময় অভিযুক্তদের একজন তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, স্থাপিত সীমানা পিলার রাতের আঁধারে অপসারণ করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে অবহিত করেছেন। ঘটনাস্থলে সাংবাদিকেরা সরজমিনে গেলে তাদের সাথে দখলদার কামরুল অত্যন্ত খারাপ আচরন করে এবং সময় আসলে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। সরকারি রাস্তা পুনরুদ্ধার এবং দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি এলাকাবাসীর।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।