জীবননগর অফিস
তিন বছর বন্ধ থাকার পর চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুনরায় অপারেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন শেষে হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা জানান, প্রাথমিকভাবে প্রতি রবিবার নিয়মিত অপারেশন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ পর্যায়ে অ্যাপেন্ডিসাইটিস, হার্নিয়া, ফিস্টুলাসহ বিভিন্ন ছোটখাটো অপারেশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সম্পন্ন করা হবে। হাসপাতালে বর্তমানে গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় আপাতত সিজারিয়ান অপারেশন চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দ্রুত একজন গাইনি চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক যোগদান করলে সিজারিয়ান অপারেশনও শুরু করা হবে।
তিনি আরও জানান, রোগীরা বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে অপারেশন করানোর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করে জেনে নিতে পারেন কোন কোন অপারেশন সরকারি হাসপাতালে করা হচ্ছে। এতে তারা স্বল্প খরচে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। তাৎক্ষণিক জরুরি সেবা নিতে আসা রোগি ফিরোজ বলেন, সুন্দর উদ্যোগ নিয়েছে আমাদের এমপি মহোদ্বয়। কিন্তুু হাসপাতালে জরুরীভাবে এম্বুলেন্স নিতে গেলে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারকে ফোন দিলে বলে বাহিরে রুগি নিয়ে আছি। অথচ কিছু সময় পরে হাসপাতাল কোয়ার্টার হতে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেরিয়ে আসছে। এ ব্যাপারে সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হোক বলে দাবি জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি রুহুল আমিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অবহেলা ও অযত্নের মধ্যে পরিচালিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ কাংখিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে বর্তমান উদ্যোগের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট অনেকাংশে দূর করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ১০ জন আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, আজ থেকে হাসপাতালের অপারেশন (ওটি) কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। এর ফলে সাধারণ ও অসচ্ছল রোগীরা বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। তিনি আরও বলেন, “সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একটি আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা ইসরাইল, জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, পৌর আমির মাওলানা ফিরোজ হোসাইন, পৌর সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিলসহ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



