স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দরা। এ সময় নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসককে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত চিকিৎসকরা জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফের কাছে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং সেগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানান। একই সঙ্গে নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানান।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, অপরিকল্পিতভাবে কোনো কিছুই করা ঠিক নয়। যেমন আমাদের সদর হাসপাতালে অবকাঠামো আছে ২৫০ শয্যার, কিন্তু লোকবল নেই, কার্যক্রমও চালু নেই। আইসিইউর অ্যাম্বুলেন্স আছে, কিন্তু সেটার চালক নেই। ব্যবহার না করায় সেটি নষ্ট হয়ে গেছে। এভাবে অপরিকল্পিতভাবে কোনো কিছু করা মানেই সেখানে দুর্নীতির একটি বিষয় থাকে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার অপরিকল্পিতভাবে কিছু চাইলেই যে সেটা দিয়ে দেবে, বিষয়টা আর তেমন নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একদম তৃণমূল থেকে স্বাস্থ্যসেবাটা জেলায় আনা হবে ক্রমান্বয়ে। আপনারা আগামী এক বছরের মধ্যে বিষয়টি দেখতে পারবেন।
আমি চুয়াডাঙ্গার এসব বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। জেলার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করে তাঁকে দিয়েছি। তিনি সেটি গ্রহণও করেছেন। আমাদের জেলায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। আমি নিজের উদ্যোগে একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। নামও ঠিক করেছি এলিট স্কলার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এখানে নার্সারি থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম আগামী জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হবে। খুব দ্রুতই চুয়াডাঙ্গাবাসী একটি মেডিকেল কলেজ পাবে, ইনশাআল্লাহ। আমি যদি এবার এমপি হতাম, তবে এবারই মেডিকেল কলেজটি করতে পারতাম। পর্যায়ক্রমে জেলায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম চালু হবে, মেডিকেল কলেজ হবে। শুধু চুয়াডাঙ্গায় নয়, আলমডাঙ্গায়ও আমি একটি মেডিকেল কলেজ করতে চাই। আমার রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আলমডাঙ্গায় একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের জেলার মানুষ চিকিৎসার জন্য খুলনা, রাজশাহী ও কুষ্টিয়ায় যায়। আমি এমন কিছু করতে চাই, যাতে জেলার মানুষ নিজ জেলাতেই সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পায়।
অনুষ্ঠানে সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ডা. এহসানুল হক তন্ময়ের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি) ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন, সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা ওয়াহিদ, ডা. আকলিমা খাতুন, সিনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি) ডা. আব্দুর রহমান এবং জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. আসাদুর রহমান মালিক।
এছাড়াও এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নার্সিং সুপারভাইজার মমতাজ খাতুন, রেহেনা পারভীন ও খালিদা খাতুন, সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজনিন আক্তার, শাহনাজ পারভীন, নাজমুন্নাহার ও নাজমুল ইসলাম, অফিস প্রধান সহকারী আব্দুস ছবুর, স্টোরকিপার হাফিজ বিন ফয়সাল পিয়াস, পরিসংখ্যানবিদ আরিফুল ইসলামসহ অন্যান্য চিকিৎসক, নার্সিং স্টাফ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় বক্তারা সদর হাসপাতালের জনবল সংকট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যা, নবউদ্বোধিত আইসিইউ চালুকরণ, প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগসহ হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসককে অবহিত করেন।
সদর হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের পক্ষে জেলা পরিষদের প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা



