চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড় ব্রিজের মোড়ে লাঠি হাতে কিছু যুবককে মারমুখ ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখা যায়!

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ধারণা করেছিল যে, হাসিনার রাজত্ব শেষ হলেই বাংলাদেশ নূতন এক অভিনব দেশে পরিণত হবে। চারিদিকে বিরাজ করবে সুখের সুবাতাস। প্রকৃতি দেখে হাসবে যে এবার বোধহয় বাংলাদেশ জেগে উঠবে জুলাই যোদ্ধাদের সংগ্রামের ফলে। দেশের অনেক খারাপ ও নিপীড়নমূলক নিয়মের পরিবর্তন হবে। দেশে কোন অনিয়ম খাকবে না। দুর্নীতি চিরকালের জন্য বন্ধ হবে। অর্থপাচার রোধ হবে। কিন্তু বিধিবাম! হাসিনা গেলেন-এলেন ইউনুস চক্র-ইউনুস গেলেন এলেন নির্বাচিত সরকার প্রধান তারেক রহমান। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মানুষগুলোর পরিবর্তন হল বটে; কিন্তু নিপীড়নমূলক নিয়মের কোন পরিবর্তন হল না।
এই নিপীড়নমূলক নিয়মের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম উদাহরণটি হল চুয়াডাঙ্গা-দৌলতদিয়াড় ব্রিজের মোড়ে লাঠি হাতে করে কিছু যুবককে মারমুখ ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখা যায়। তারা আগেও ছিল এখনো আছে। তাহলে পরিবর্তন কী হলো! বিষয়টি ছোট-কিন্তু তার প্রতিক্রিয়া জেলাব্যাপী। তারা ওখানে বসে ঠিক করে দেয়, সকল যাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে বাসে চড়ে তাদের গন্তব্যে যেতে হবে। কেউ যেতে অস্বীকার করলে তাদের হেনস্তা ও হয়রানি করা হয়। কেউ কোন কথা বলে না । প্রতিবাদ করে না। বিনা দ্বিধায় এই সব লেঠেল যুবক দৈনিক কিছু মজুরীর বিনিময়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে অপমান ও অপদস্ত করছে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে। আর আমরা তাকিয়ে দেখছি অসহায়ের মতো।
আমরা সামন্ত জমিদার যুগের লেঠেল বাহিনীর কথা ইতিহাসে পড়েছি। কিন্তু এখন তো দেখছি সেই যুগ আবার ফিরে এসেছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় রয়েছে অনেক স্তরের সরকারি প্রশাসন। রয়েছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ প্রশাসন। রয়েছে বিএনপির একটি সমান্তরাল বেসামরিক প্রশাসন। প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তারা জানেন যে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ ব্রিজের মোড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে, কিন্ত কেউ কোন কথা বলছে না বা ওদেরকে উচ্ছেদ করছে না। সাধারণ মানুষ যেন এই হয়রানিমূলক ব্যবস্থা মেনে নিয়েছে। কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা ছিল না।
দেশ যদি হাসিনার আদলেই চলে, তবে জুলাই যোদ্ধাদের সেই নুতন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন কোথাই গেল? চুয়াডাঙ্গার গুটিকয়েক বাস মালিকের কাছে পুরো প্রশাসন জিম্মি হয়ে গেল। প্রশাসন কেনো কোন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এভাবেই চলতে থাকবে। চুয়াডাঙ্গার সচেতন মহলের জিজ্ঞাসা প্রশাসন নীরব কেন? এদেশের মানুষ অশিক্ষিত ও বোধহীন হলেও ভাল-মন্দ পৃথক করার জ্ঞান তারা হারিয়ে ফেলেনি। পাখি ভ্যান, ইজি-বাইক, রিকশা শ্রমিকের জীবন ও সংসার নির্ভর করে এই শ্রমের উপর। এই সব গরীব ও ছিন্নমূল মানুষদের হয়রানি করা হচ্ছে প্রতিদিন, আর প্রশাসন তা দেখছে। মনে রাখবেন সাধারণ মানুষ কোন কিছু ভোলে না। স্মৃতির মনিকোঠায় সব নিপীড়নের চিত্র তারা জমা করে রাখে। যদি আগে থেকে এর প্রতিকার না হয়, তবে সুযোগ মতো এর বিস্ফোরণ ঘটবেই। অতএব সাধু সাবধান!

লেখক-জাহিদ হোসেন
অবসরপ্রাপ্ত কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।