তৌহিদ উদ দৌলা রেজা, মেহেরপুর
মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশনের বর্জ্য থেকে তৈরি কম্পোস্ট সার সাড়া ফেলেছে কৃষকের মাঝে। পৌর এলাকার বসতবাড়ির ও বিভিন্ন বর্জ্য থেকে প্রতি মাসে প্রস্তুত করা হচ্ছে ৪০০ কেজি জৈব সার। আগামীতে অধিক পরিমাণ সার প্রস্তুত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, বর্জ্য থেকে প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য আলাদা করে তা কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলেও দাবী পৌর কর্তৃপক্ষের।
জানা গেছে, গাংনী পৌর এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিটি পাড়া মহল্লার বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিকের ডাস্টবিন রাখা আছে। সেখানে শহরবাসি ময়লাও আবর্জনা ফেলে রাখে। প্রতিদিন সকালে সেই আবর্জনা ডাম্পিং স্টেশন জমা করা হয়। মাত্র দুইজন শ্রমিক ওই আবর্জনা থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য উচ্ছিষ্ট অংশ আলাদা করে। পরে গ্রাইন্ডার মেশিনের মাধ্যমে এ কম্পোস্ট স্যার প্রস্তুত করা হয়।
মেহেরপুর একটি কৃষি প্রধান জেলা তাই এ রাসায়নিক সারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে এ ডাম্পিং সেন্টারে জৈব সার উৎপাদন করা সম্ভব হলে এ উপজেলায় রাসায়নিক সারের চাহিদা কমবে। এলাকার সবজি চাষিরা এই সার নিয়ে বিষমুক্ত সবজি আবাদ করে বেশি লাভবান হবেন। অন্যদিকে শহরবাসী ময়লা ও আবর্জনা মুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে পারছেন। প্রতিদিন ৩টন বর্জ্য জমা হয় ডাম্পিং স্টেশনে। আগামীতে আরো বর্জ্য জমা হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমান জৈব সার উৎপন্ন হবে।
সাহারবাটির গ্রামের সবজি চাষি সাবান আলী জানান, কম্পোস্ট সারের সবচেয়ে বড় উপকার হলো এটি সব ধরণের সবজি ও গাছে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া কম্পোস্ট সার প্রয়োগের ফলে মাটির উর্বরতাও বেড়ে যায়। এছাড়া কম্পোস্ট সার যেসব গাছের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, তারা বিভিন্ন রোগে কম আক্রান্ত হয়। একই কথা জানান কৃষক আলভীসহ স্থানীয় কয়েকজন।
ডাম্পিং সেন্টারের দ্বায়িত্বে থাকা গাংনী পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী রাজু আহম্মেদ জানান, প্রতিদিনই শহরে বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয়। এগুলো যেখানে সেখানে না ফেলে বেশ চমৎকার এক কাজে ব্যবহার করা যায়। সেটা হলো কম্পোস্ট সার তৈরি করা। সব ধরণের জৈবিক পদার্থই এক সময়ে ধীরে ধীরে পচে যেতে শুরু করে। আর এই পচনের জন্য মূলত দায়ী কিছু বিশেষ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া ও আরো কিছু জীবাণু। পচে যাওয়া এসব পদার্থকে ঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা গেলে তা মিশ্র সার হিসেবে খুব ভালো কাজে দিতে পারে। পৌরসভা একইভাবে কম্পোস্ট সার তৈরী করছে।
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার মতিয়র রহমান জানান, পৌর এলাকার বর্জ্য দিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ যে সার উৎপন্ন করছেন সেটি কৃষি ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভুমিকা রাখছে। এটি আরো বিস্তৃত হলে কৃষকেরা আরো উপকৃত হবেন। এবং স্বল্প খরছে ভালো ফসলও উৎপাদন করতে পারবেন।
গাংনী পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশনের কম্পোস্ট সার সাড়া ফেলেছে কৃষকের মাঝে



