চুয়াডাঙ্গার বোয়ালমারী গ্রামে জমি নিয়ে বৃদ্ধা মাকে নির্যাতনের অভিযোগে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামে জমি লিখে নিতে বৃদ্ধা মাকে নির্যাতনের যে অভিযোগ সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। গতকাল রবিবার বিকালে বোয়ালমারী গ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এই দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, মা মোছা. জাহানারা বেগম, তার দুই পুত্র মো. জাকায়রুল হক ও মো. হুমায়ুন রশীদ এবং পুত্রবধূ মোছা. কামরুন্নেছা ও মোছা. খাদীজা পারভীনের বিরুদ্ধে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
পরিবারের অভিযোগ, এই সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের পেছনে মূল নায়ক হিসেবে কাজ করছেন ওই পরিবারের একমাত্র জামাতা মো. সাইদুল হক হেলাল। তাকে এই কুকার্যে কুচক্রী হিসেবে সহযোগিতা করছেন বোয়ালমারী গ্রামের মৃত আমিনুর ইসলামের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম রনি এবং মৃত আবুল মণ্ডলের ছেলে মো. সেলিম হোসেন ঠান্ডু। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়; জামাতা হেলাল বিগত দিনে কৌশলে বিভিন্ন ধাপে পরিবারটি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছেন। এর মধ্যে হেলালের ছেলের চিকিৎসার কথা বলে জাহানারা বেগমের দুই ছেলের কাছ থেকে নগদ ৪ লাখ টাকা, শ্বশুরের নামের ৪ বিঘা জমি (অংশ মোতাবেক), ২.৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং মায়ের ব্যবহৃত আরও নগদ ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের কর্তার মৃত্যুর পর থেকেই জামাতা হেলাল নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বৃদ্ধা শাশুড়ি জাহানারা বেগমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। তার মন্ত্রণায় প্ররোচিত হয়ে মা প্রায়ই বাড়িতে অশান্তি সৃষ্টি করেন এবং বাবার রেখে যাওয়া টাকা-পয়সা ও জমিজমা জামাতাকে দেয়ার চেষ্টা করেন।
মায়ের নিজের নামের ৩টি জমির মধ্যে একটি চাষের জমি এবং ২টি বাগান রয়েছে, যা অনেক আগেই মা নিজে বুঝে নিয়েছেন। বর্তমানে মা, বোন এবং জামাতা হেলাল ওই সমস্ত জমির বর্গাচাষী ও লিজগ্রহীতাদের সাথে যোগাযোগ করে নিয়মিত লিজের টাকা নিচ্ছেন। অথচ বাইরে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে ছেলেরা মাকে জমি দিচ্ছে না। দলিলপত্র গায়েব ও চাপ সৃষ্টি: জামাতা হেলালের কুচক্রে পড়ে মা জাহানারা বেগম একসময় বাবার মালিকানাধীন জমির ৬টি মূল দলিল নিজের জিম্মায় নেন। পরবর্তীতে ছেলেরা ফেরত চাইলে অনেক দিন পর তিনি মাত্র ১টি দলিল ফেরত দেন। বাকি ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দলিল এখনো তাদের কাছে রয়েছে। উল্টো জামাতার প্ররোচনায় মা বাকি জমিগুলো লিখে নেওয়ার জন্য ছেলেদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছেন, যা ‘উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে’ চাপানোর শামিল।
সংবাদ সম্মেলন শেষে আরো পরিবারটি জানায়, মিথ্যা মামলা ও মিডিয়া ট্রায়ালের কারণে তারা চরম সামাজিক হেয় প্রতিপন্ন ও অসহায় অবস্থার শিকার হচ্ছেন। তারা এই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানান এবং সমাজের বিবেকবান মানুষ ও প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান। আজকের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ ও সই করেন জাহানারা বেগমের দুই সন্তান মো. জাকায়রুল হক এবং মো. হুমায়ুন রশীদ। এছাড়াও স্থানীয়দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুর গফুর মাষ্টার, আব্দুর শাহীন মাষ্টার, মহাবুল হোসেন, শিরিন আক্তার, শাহীন আলী, হাসান আলী, মালেকা বেগম, বিথি খাতুন, জাহিদ আলীসহ অনেকেই।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।