আকাশি-সাদার আবরণে হাটবোয়ালিয়া সেতু ফুটবলপ্রেমীদের আবেগে যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনা

নাজমুল হক শাওন, আলমডাঙ্গা
বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে শুরু হয় এক ভিন্ন উৎসব। কোথাও বাড়ির ছাদে উড়ে প্রিয় দলের পতাকা, কোথাও রঙিন হয়ে ওঠে গ্রামের রাস্তা। সেই চিরচেনা ফুটবল উন্মাদনায় এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া। এখানে একটি সেতু এখন শুধু যাতায়াতের পথ নয়, বরং ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ, ভালোবাসা আর উচ্ছ্বাসের এক জীবন্ত প্রতীক।
হাটবোয়ালিয়া সেতুর ওপর দাঁড়ালেই মনে হবে, যেন বাংলাদেশের কোনো গ্রামে নয়, আর্জেন্টিনার কোনো প্রান্তে এসে পড়েছেন। সেতুর দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে উড়ছে আকাশি-সাদা রঙের অসংখ্য পতাকা। বাতাসের সঙ্গে দুলতে থাকা পতাকাগুলো পুরো এলাকাকে দিয়েছে এক উৎসবমুখর রূপ। দূর থেকেই চোখে পড়ে রঙের এই মায়াবী সমারোহ।
স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে সাজানো হয়েছে সেতুটি। তাদের ভাষায়, এটি শুধু একটি দলের প্রতি সমর্থনের প্রকাশ নয়; বরং বিশ্বকাপের আনন্দ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উদ্যাপনের একটি প্রচেষ্টা।
দিনের বেলায় সূর্যের আলোয় পতাকাগুলোর রঙ যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আর সন্ধ্যা নামার পরও কমে না দর্শনার্থীদের ভিড়। সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারী মানুষজন কিছুক্ষণ থেমে দৃশ্যটি উপভোগ করেন। কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, কেউ আবার সেলফি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।
স্থানীয় তরুণদের মধ্যে এই আয়োজন ঘিরে দেখা গেছে বিশেষ উচ্ছ্বাস। অনেকেই বন্ধুদের নিয়ে সেতু দেখতে আসছেন। কেউ কেউ বলছেন, এত সুন্দরভাবে সাজানো ফুটবল-থিমের কোনো স্থান তারা আগে এলাকায় দেখেননি।
আর্জেন্টিনা সমর্থকরা জানান, ফুটবল তাদের কাছে শুধুই একটি খেলা নয়; এটি আবেগের নাম, ভালোবাসার নাম। বিশ্বকাপের সময় প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন প্রকাশের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
এলাকার প্রবীণ চায়ের দোকানদার আলিফ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, খেলাধুলা মানুষকে একত্রিত করে, ভেদাভেদ ভুলিয়ে দেয়। বিভিন্ন দলের সমর্থক থাকলেও ফুটবল উৎসব যেন পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ভাষায়, সেতুর এই নান্দনিক সাজসজ্জা এলাকায় নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে সেতুটি দেখছেন। এতে একদিকে যেমন বিশ্বকাপের আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে, অন্যদিকে এলাকাটিও নতুন করে পরিচিতি পাচ্ছে।
ফুটবলপ্রেমীদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ প্রমাণ করে, খেলার প্রতি ভালোবাসা কখনো কখনো শিল্পের রূপও নিতে পারে। আকাশি-সাদা পতাকায় মোড়ানো হাটবোয়ালিয়া সেতু তাই এখন শুধু একটি সেতু নয়—এটি বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ভাসা মানুষের স্বপ্ন, আবেগ ও ভালোবাসার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। বিশ্বকাপের আবহে এই সেতু যেন নীরবে জানিয়ে দিচ্ছে, ফুটবল শুধু মাঠের খেলা নয়; এটি মানুষের হৃদয়েরও একটি ভাষা।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।