স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা শহরের অন্যতম ব্যস্ত কাঁচাবাজার ‘রেলবাজার মাছ-মাংসের বাজার’ এখন তীব্রহ দুর্গন্ধ আর বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষের যাতায়াত এই বাজারে চুয়াডাঙ্গা পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করায় ছড়াচ্ছে চরম দূগন্ধ। বাজারের ভেতরে ও আশপাশে জমে থাকা ময়লার স্তূপ থেকে নির্গত পচা দুর্গন্ধে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের টেকাই দায় হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছ ও মাংসের বাজারের নির্দিষ্ট কোণ এবং যাতায়াতের রাস্তার পাশেই স্তূপ করে রাখা হয়েছে গরু-ছাগলের বর্জ , মাছের আঁশ ও অন্যান্য উচ্ছিষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে এগুলো জমে থাকায় চুইয়ে পড়া নোংরা পানি বাজারের মূল রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে পুরো এলাকায় এক দমবন্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আযহার পর থেকেই বাজারের কোন বর্জ্য অপসারণ করা হয়নি বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারের সার্বিক অব্যবস্থাপনা ও নোংরা পরিবেশ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মাছ ব্যবসায়ী স্বপন বলেন, এই বাজারে ব্যবসা করা এখন কষ্টের হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন মাছের আঁশ আর পচা পানি এখানে জমে থাকে। পৌরসভা থেকে ঠিকমতো ময়লা পরিষ্কার করা হয় না। ৮/১০ ঘণ্টা পচা গন্ধের মধ্যে বসে আমাদের ব্যবসা করতে হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে কাস্টমাররা বাজারে এসে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে চায় না, দ্রুত কেনাকাটা করে চলে যায়। এভাবে চলতে থাকলে আমরা ব্যবসা করব কীভাবে?”
বাজারের ছাগলের মাংস ব্যবসায়ী খোকন বলেন, ময়লার দুর্গন্ধের কারণে বাজারে দম নেওয়ার কোনো উপায় নেই। আমরা দিনরাত এখানে বসে থাকি, আমাদের তো অসুখ-বিসুখ হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় দূর থেকে কাস্টমাররা এসে এই নোংরা পরিবেশ দেখে নাক চেপে ফিরে যায়। আমরা নিয়মিত ট্যাক্স-খাজনা দিচ্ছি, কিন্তু বাজারের এই বেহাল দশা দেখার যেন কেউ নেই। অবিলম্বে এই ময়লার স্তূপ স্থায়ীভাবে অপসারণ করা দরকার।
পরিবেশের এমন বিপর্যয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে গরুর মাংস ব্যবসায়ী মানিক বলেন, বাজারের এই অবস্থা সত্যিই চুয়াডাঙ্গাবাসীর জন্য লজ্জাজনক। যেখানে মাংসের মতো একটা খাদ্যদ্রব্য বিক্রি হয়, তার পাশেই যদি ময়লার ডিপো বানিয়ে রাখা হয়, তবে তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর ভাবুন। চুয়াডাঙ্গা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, দয়া করে এই ময়লা দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করুন এবং প্রতিদিন বাজার পরিষ্কার রাখার স্থায়ী পদক্ষেপ নিন। না হলে আমরা ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ব।
এদিকে বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারা জানান, রেলবাজারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে এমন নোংরা পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। দুর্গন্ধের কারণে বাজারে ঢুকলেই বমি বমি ভাব আসে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এই বিষয়টি আমলে নিয়ে রেলবাজার মাছ-মাংসের বাজারের এই নরকীয় পরিবেশ থেকে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ক্রেতাদের মুক্তি দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
চুয়াডাঙ্গা রেলবাজার মাছ-মাংস বাজারে ময়লার স্তূপ তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ক্রেতা-বিক্রেতারা, ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ চরমে



