স্টাফ রিপোর্টার
জৈষ্ঠ্যের শেষে এসে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে তীব্র দাবদাহ। গতকাল বুধবার সকাল থেকেই সূর্যের প্রখর তাপে তপ্ত হয়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার আকাশ-বাতাস। দুপুরের দিকে তাপমাত্রা ও বাতাসের আর্দ্রতার যুগলবন্দী সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। দিনের এই ভ্যাপসা গরমে জনজীবন হয়ে পড়েছে দুর্বিষহ। বেকায়দায় পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষেরা। প্রচন্ড রোদ গরমে তারা কেউ কাজে যেতে পারছেনা। অনেকে পেটের তাড়নায় কাজে গেলেও অল্পতেই ঘেমে নেয়ে অস্থির হয়ে পড়ছে। তীব্র গরমে এক পশলা বৃষ্টির আশায় বুক বেধে রয়েছেন জেলাবাসী।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুর ১২ টায় চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৫৭ শতাংশ। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় দুপুরের দিকেই অসহনীয় গরম আর অস্বস্তি চরমে পৌঁছায়। তবে দুপুরের সেই অস্বস্তি বিকেলে রূপ নেয় তীব্র দাবদাহে। বেলা ৩ টায় জেলায় এ মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা কিছুটা কমে ৪৭ শতাংশে দাঁড়ালেও রোদের তীব্রতা এবং তপ্ত বাতাসের কারণে ঘরের বাইরে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। তীব্র এই গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
শহরের বড় বাজার মোড়ে কথা হয় পাখিভ্যান চালক কাদের আলীর সাথে। তিনি বলেন রাস্তা দিয়ে মনে হচ্ছে আগুনের হলকা বেরোচ্ছে। ভ্যান চললে গায়ে একটু বাতাস লাগে তাও আগুনের মত গরম। মাঠে কাজ করা কৃষকদেরও একই দশা। তীব্র রোদের কারণে দুপুরের পর মাঠের কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। শহরের বিপণিবিতান ও রাস্তাঘাটে অন্যান্য দিনের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি ছিল বেশ কম। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।
কৃষক আবদার আলী বলেন, সকাল বেলা মাঠে যাই কৃষি কাজ করতে। এখন বর্তমানে এত পরিমান গরম পরছে যে মাঠে গেলেই সূর্যের প্রখর তাপে মাঠে দাঁড়াতেই পারছি না। তীব্র গরমে যতটুকু সম্ভব মাঠে কাজ করে খুব দ্রুতই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে আমাদের। তাছাড়া এই গরমে মাঠের ফসল লাগিয়ে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা একটু বৃষ্টির অপেক্ষায় আছি। একটু বৃষ্টি হলে হয়তো আবহাওয়া অনুকূলে আসতে পারে।
হঠাৎ এমন ভ্যাপসা ও তীব্র গরমে জেলা জুড়ে ডায়রিয়া, হিট স্ট্রোক এবং ডিহাইড্রেশনের (পানিশূন্যতা) মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা এই আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। শরীর সতেজ রাখতে প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি, ডাবের পানি ও খাবার স্যালাইন পান করার আহ্বান জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী আরও কয়েকদিন এই ধরনের গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে।
বেকায়দায় খেটে খাওয়া মানুষ, ঘেমে নেয়ে অস্থির চুয়াডাঙ্গায় মাঝারি তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত



