গাইদঘাট কমলাদোহা পুকুর থেকে ৩০ বস্তা সার উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামের ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ‘কমলা দোয়া’তে বিপুল পরিমাণ সরকারি সার ব্যবহারের অভিযোগে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত রবিবার বেলা ১২টার দিকে জলাশয়ে সার ছিটানোর সময় স্থানীয় জনতার হাতে বিপুল পরিমাণ সার জব্দের ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৩০ বস্তা সার উদ্ধার করে। গতকাল সোমবার উপজেলা কৃষি অফিসে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের তলব করা হলে সময় মতো তারা সেখানে উপস্থিত না হওয়ায় জব্দকৃত সার সরকারি মূল্যে বিক্রি করে এর অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। এছাড়া সার ডিলার ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায়  শতাধিক বিঘা আয়তনের কমলা দোয়ার প্রায় ৮০ বিঘা জলাশয় লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছেন শষ্টি মিয়া ও তার অংশীদার শাহাবুদ্দিন মিয়া। গত রবিবার দুপুরে তাদের উপস্থিতিতে ১০-১২ জন জেলে প্রায় ১৭০ বস্তা সার নিয়ে জলাশয়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪০ বস্তা সার ইতোমধ্যে পানিতে ছিটিয়ে ফেলা হয়েছিল বলেও দাবি এলাকাবাসীর। সার ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা কোনো সন্তোষজনক জবাব দেননি এবং স্থানীয়দের হুমকি-ধামকিও দেন। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সার কীভাবে বিপুল পরিমাণে একটি মাছের ঘের বা জলাশয়ে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি নেতা ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ওলামা দলের এক দায়িত্বশীল নেতা মাওলানা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (আনা মিয়া) দাবি করেন, বিষয়টি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অবগত আছেন। তবে পরে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। এ দুই বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় এলাকায় নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ঢাকাস্থ শ্রমিক দল নেতা লিটন জানান, ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসে তিনি কমলা দোয়ায় শতাধিক বস্তা সার দেখতে পান। বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেন। লিটন বলেন, যেখানে কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না, সেখানে একটি জলাশয়ে বিপুল পরিমাণ সার ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি শুধু অনিয়ম নয়, পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ। পরবর্তীতে খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অবশিষ্ট প্রায় ৩০ বস্তা সার জব্দ করেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ৩০ বস্তা সার জব্দ করেছি। অভিযুক্তদের হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা কৃষি অফিসে তাদের তলব করা হয়েছে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যদি অবৈধভাবে সার ক্রয় ও জলাশয়ে প্রয়োগের বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি সার কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে জলাশয়ে ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী
এ বিষয়ে গতকাল উপজেলা কৃষি অফিসে অভিযুক্তদের তলব করা হলে, তারা যথাসময়ে সেখানে উপস্থিত হননি। এমতাবস্থায় জব্দকৃত সার সরকারি মূল্যে বিক্রি করে অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হয়।  
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এই বিপুল পরিমাণ সারের মধ্যে ৩০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছিল। আমরা অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর জন্য উপজেলা কৃষি অফিসে তলব করি। কিন্তু অভিযুক্তরা সেখানে উপস্থিত না হওয়ায় আমরা সারগুলো সরকারি মূল্যে বিক্রি করে অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করি। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি সারগুলো চুয়াডাঙ্গার কেদারগঞ্জের হান্নান এন্ড ব্রাদার্স থেকে ক্রয় করা হয়েছিল। আমরা এর সত্যতা নিশ্চিত করতে তদন্ত শুরু করেছি তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।