জীবননগর অফিস
পবিত্র ঈদুল আজহা ও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমতে শুরু করেছে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তর চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার শিয়ালমারি পশুহাট। হাটে এবারও দেশি জাতের ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা অনেক বেশি। বড় গরুর চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় দুশ্চিন্তায় আছে খামারি ও চাষিরা। ক্রেতারা বলছেন গতবছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি। প্রতি বৃহস্পতিবার বসে সাপ্তাহিক এ পশু হাট।
জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দুরে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে বিশাল এ পশু হাট। প্রতি বৃহস্পতিবার বসে সাপ্তাহিক এ হাট। দুপুরের পর থেকে জমজমাট হতে থাকে হাট। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে জমজমাট কেনাবেচা। দুর-দূরান্ত থেকে খামারী ও কৃষকরা তাদের পালিত গরু-ছাগল নিয়ে আসে হাটে। আর এ পশু কিনতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ব্যাপারী ও কোরবানী পশু ক্রেতারে হাটে আসে। আর মাত্র ১৩ দিন পর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা উদযাপিত হবে। সেই কারনে অনেকেই পশু কেনা বেচায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেকেই এ সপ্তাহে পশু কেনাবেচা না করলেও হাটে দরদাম করছেন। ঈদের আগে শিয়ালমারি পশু হাটে আর একটি মাত্র হাট বসবে বলে জানা গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক এই পশু হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে শত শত গরু, ছাগল, ভেড়া মহিষের উপস্থিতি ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারীরা কুরবানির পশু ক্রয়ের জন্য হাটে এসেছেন। বেপারীদের সাথে খামারীদের গরু বেচা-কেনা করতে দীর্ঘক্ষণ ধরে দরকষাকষি করতে দেখা গেছে। কুরবানির পশু ও ক্রেতা বিক্রেতাদের সমাগমে হাটটি বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। হাটের বিশাল আকৃতির গরুগুলো সবার নজর কাড়লেও সাধারণ ক্রেতাদের মাঝারি সাইজের গরুতে আগ্রহ বেশি।
গরু কিনতে আসা রাকিবুল ইসলাম জানান, কুরবানি দেওয়ার জন্য হাটে একটি গরু কিনতে আসেছি। বাজারে গরুর দাম অনেক বেশি। একটু বড় সাইজের গরুগুলো দাম বলছে দুই লাখ টাকা। ১ লক্ষ থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মধ্যে মাঝারি সাইজের একটি গরু খুঁজছি। কিন্তু গরু পছন্দ হলে দেড় লক্ষ টাকার নিচে দাম বলছে না।
খামারি জামাল হোসেন বলেন, কুরবানির জন্য ফার্মে ৮ টি গরু মোটাতাজা করন করেছি। আজকে ৪ টি গরু হাটে নিয়ে এসেছি। গরুর দাম শুনে অনেকই বলছে দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। এখন গোখাদ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। গরু লালন পালন করতে অনেক খরচ হয়। সব কিছু হিসেব করেই দাম চাওয়া হচ্ছে।
ফরিদপুর থেকে গরু কিনতে আসা বিল্লাল বেপারী বলেন, আমি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে শিয়ালমারি হাটে গরু কিনতে আসি। এই হাটে অনেক গরু আমদানি হয়। যার কারনে ট্রাক নিয়ে গুরু কিনতে এসেছি। ১০ টি গরু কেনা হয়েছে। আর ৫ টি গরু কিনে ঢাকাতে নিয়ে যাবো। মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি থাকার কারনে এই ধরনের গরু বেশি কেনা হয়েছে। কুরবানির ছাগল কিনতে আসা আলমগীর হোসেন বলেন, আজকের হাটে কুরবানি দেওয়ার উপযুক্ত প্রচুর ছাগল উঠেছে। ছাগলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ২০ হাজার টাকায় পছন্দমত একটি ছাগল কিনতে পেরেছি। গরু বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, আমি শিয়ালমারি হাটে গরু এনেছি ৫ টি, তার মধ্যে ৪টি বিক্রি হয়ে গেছে, আর ১টি গরু আছে। আামি দাম দিয়েছি ২ লাখ টাকা। ব্যাপারীরা দাম দিচ্ছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর একটু দাম বেশি হলে বিক্রি করে দিবো। ৪টি গরুতে মোটামুটি ভালোই লাভ হয়েছে।
হাট মালিক কামরুল হাসান জানান, কুরবানির ঈদের এখনো কয়েকদিন বাকি রয়েছে। যার কারনে হাটে কেনা বেচা এখনো সেভাবে বাড়েনি। অজ্ঞান পার্টি ও মালম পার্টির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সমসময় সতর্ক করা হচ্ছে। মেশিনের মাধ্যমে জাল টাকা পরীক্ষা করা হচ্ছে। গরুর স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে। তিনি আরো বলেন শিয়ালমারি হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত আছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যাপারীরা নিরবিঘ্নে গরু কেনা-বেচা করতে পারে পারে তার জন্য সব সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
জীবননগর উপজেলা প্রানীসম্পদ কর্মকর্তা মিঠুন চন্দ্র রায় বলেন, উপজেলায় এ বছর কোরবানী উপযোগী পশু রয়েছে ৪১ হাজার ৪৯২ টি। এর মধ্যে গরু ৬ হাজার ৯৮৬ ও ছাগল রয়েছে ৩৩ হাজার ৯৯৯ টি। উপজেলায় কুরবানি পশুর চাহিদা ৩২ হাজার ৭৬৪ টি। উদ্বৃক্ত থাকছে ৬ হাজার ৭২৮টি। বাকী পশুগুলেঅ দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করা হবে।



