স্টাফ রিপোর্টার
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ যথাযথ মর্যাদা ও সুষ্ঠু পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে| চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গতকাল বুধবার বেলা ৩ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়| অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশীর সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার| অনুষ্ঠানে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য অপসারণ এবং ঈদুল আজহার প্রধান জামাতগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়|
সবাই জানানো হয়, আগামী ২৮ মে ঈদ-উল-আজহার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারন করা হয়| এর পর গত বছরের কার্যবিবরণী পাঠ করা হয়| এবার কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সাথে মিল রেখে চুয়াডাঙ্গার চাঁদমারি পৌর সভার আয়োজনে প্রধান ঈদগাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৭টায় পবিত্র ঈদুল আযহার জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে| পৌর ঈদগাহসহ পৌর এলাকার অধিকাংশ ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদুল আযহার জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে| তবে এর বাইরে পৌর কলেজ ঈদগাহ ময়দানে ৮ টায়, খাদেমুল ইসলাম ঈদগাহ ময়দানে পৌনে ৮টায়, বেলগাছি ঈদগাহ ময়দানে পৌনে ৮ টায়, নুরনগর কলোনিপাড়া ঈদগাহ ময়দানে ৮টায় এবং ভীমরুল্লাহ ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮ টায় ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে|
পশু কোরবানির, পশুহাট ও বজ্র ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নানান নীতিমালা নিয়ে সভায় আরো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়| জেলার প্রতিটি পশুহাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে| পশুহাট গুলোতে গ্রাম পুলিশ থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হবে| সেই সাথে জাল নোট ও অজ্ঞান পার্টির বিষয়েও পুলিশের বিশেষ নজরদারি রাখা হবে| পশুহাট গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়| পশুর চামড়া সংরক্ষণে জেলায় ৩৫ মেট্রিক টন লবণ ইতোমধ্যে বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়| সেই সাথে কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়েও বিশেষ নজরদারি রাখা হবে বলে জানানো হয়|
এ সময় হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অধিক খাজনা বা হাসিল আদায়ের অভিযোগ ওঠে| ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা জানান, ইজারাদাররা হাট ক্রয়ের সময় প্রতিটি পশু থেকে যে পরিমাণ খাজনা আদায় করছিলেন তাতে তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ লাভ হচ্ছে না| তাই অনেক ইজারাদাররাই হাটের খাজনা বা হাসিল বৃদ্ধির জন্য আবেদন করছেন| বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলা প্রশাসক বড় মাঝারি এবং ছোট গরুর ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা খাজনা বা হাসিল আদায়ের বিষয়ে বলেন| তবে খাজনা বা হাসিল বৃদ্ধির বিষয়টির ঘোর বিরোধিতা করেন সাংবাদিকবৃন্দ|
তারা বলেন, ইজারাদাররা খাজনার বিষয়টি জেনে বুঝেই ডাক হেকে অধিক মূল্যে হাট ক্রয় করে| তাহলে তাদের এই লোকশানের ভার সাধারণ জনগণ কেন বহন করবে? উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সঙ্গে বসে পরবর্তীতে খাজনা বা হাসিল বৃদ্ধি হবে কি হবে না সেটি জানানো হবে বলে জানানো হয়| তবে গত বছর গরু/ মহিষ প্রতি হাসিল বা খাজনা নির্ধারনের হার ছিলো, ক্রেতার কাছ থেকে সাড়ে ৩শ টাকা ও বিক্রেতার কাছ থেকে সাড়ে ৩ শ টাকা| মোট গরু প্রতি ৭শ টাকা আদায় করা হতো| অপরদিকে ছাগল/ভেড়া প্রতি হাসিল বা খাজনা নির্ধারন ছিলো ক্রেতার কাছ থেকে ১শ টাকা ও বিক্রেতার কাছ থেকে ১শ টাকা| মোট ছাগল প্রতি ২ শ টাকা আদায় করা হতে| গতবছর যে হারে খাজনা নেয়া হয়েছিলো, এবার সেটা বহাল রাখার জন্য উপস্থিত সবাই মতামত ব্যক্ত করেন| অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলা প্রশাসনের বেধে নেয়া নির্ধানিত মূল্যের থেকে কয়েকগুণ পশু প্রতি খাজনা আদায় করা হয়| এ কারনে কোরবাণী পশু ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ˆতরী হয়েছে| এ কারনে অনেকেই হাটে পশু না কিনে খামার অথবা কৃষকরে বাড়ি থেকে ক্রয় করেন|
এ সময় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে জেলার আইনশৃঙ্খলা তৎপরতা বাড়াতে হবে| জেলায় যে সকল পশুহাট রয়েছে একই দিনে একাধিক পশুর হাট বসানো যাবে না| ইউনিয়ন পরিষদে একজন গ্রাম পুলিশ রেখে বাকিরা পশুহাটের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে| সেই সাথে হাটে দায়িত্ব পালন করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ইজারাদারদের ¯ে^চ্ছাসেবকগন| সেই সাথে খেয়াল রাখতে হবে যাতে রাস্তায় গরু লোড আনলোড না হয়, হাটের অভ্যন্তরীণ স্থানে গরু উঠা নামা করাতে হবে| হাটে নানা ধরনের প্রতারক চক্র ঘোরাফেরা করে| তাই সকলের জনসচেতনতার জন্য একটি রেকর্ড মাইক হাটে বাজাতে হবে| পশু কোরবানির বিষয়ে জেলা প্রশাসক আরো বলেন, পৌর এলাকার মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি করতে হবে| কেউ যদি তার দায়িত্বে নিজ আঙিনায় পশু কোরবানি করে তবে তার বর্জ্য পরিষ্কারের দায় নিজেকে নিতে হবে| ঈদের দিন মাগরিবের আজান দেওয়ার আগেই পশুর বর্জ্য পরিষ্কার করে ফেলতে হবে| ঈদের পরের দিনই ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করবেন| যার বাড়ি বা আশপাশ থেকে পশু বর্জ্যের দুর্গন্ধ আসবে তাকে জরিমানা করা হবে| পৌর এলাকার বাইরে গ্রাম পর্যায়ে যারা পশু কোরবানি করবেন তাদের এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি প্রত্যেকটি মসজিদে খুতবায় জানিয়ে দিতে হবে|
এ সময় আরোও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার ˆমত্র, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম তারিক উজ জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ শাহাবুদ্দিন, সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, বিআরটিএ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি) লিটন বিশ্বাস, টিআই অ্যাডমিন আমিরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক ¯^পন, সাধারণ সম্পাদক শাহআলম সনি, সাবেক সাধারন সম্পাদক বিপুল আশরাফ, জেলা মটরশ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি এম জেনারেল, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবীব সেলিম, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনিসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ|



