স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১৩ মে থেকে আম সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হবে| আজ রবিবার বেলা সাড়ে ৩টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আম সংগ্রহের ক্যালেন্ডার ˆতরীর লক্ষে এক মতবিনিময় সভায় এ সময়কাল নির্ধারণ করা হয়| মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসন, কৃষি কর্মকর্তা, আম বাগান মালিক ও আম ব্যবসায়ীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন|
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার| কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকারের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মিঠু চন্দ্র অধিকারী, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষ্ণ রায়, আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার, জেলা কৃষি বিপণনের মাঠ ও বাজার পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহআলম সনি, ˆদনিক আজকের চুয়াডাঙ্গার সম্পাদক বিপুল আশরাফ প্রমুখ|
সভায় জানানো হয়, চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে| জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ৮৪২ মেট্রিকটন|
মতবিনিময় সভায় সবার সন্মতিতে সীদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, আগামী ১৩ মে থেকে আঁটি, গুটি, বো¤^াই, খিরসাপাত ও গোপালভোগ জাতের আম, ২০ মে থেকে হিমসাগর, ২৫ মে থেকে ল্যাংড়া, ৫ জুন আম্রপালি (বারি আম-৩), ১৫ জুন ১ থেকে ফজলী জাতের আম , ২০ জুন হাঁড়িভাঙ্গা, ব্যানানা জাতের আম ২২ জুন ৬, আশ্বিনা (বারি আম-৪) ৩০ জুন, কার্টিমন ৫ জুলাই ও গৌড়মতি (বারি আস-১২) জাতের আম সংগ্রহ শুরু হবে|
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, জেলা ব্যাপী আম সংগ্রহের যে সূচিটি দেয়া হয়েছে তার বাইরে কেউ অপরিপক্ষ আম পাড়তে পারবে না| কেউ যদি এর ব্যত্যয় ঘটান তবে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে|
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, কোন অবস্থাতেই বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে অপরিপক্ক আম সংগ্রহ করা যাবেনা| এছাড়া আম পাকানো ও সংরক্ষণের জন্য কোন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা যাবেনা| অবৈধ প্রক্রিয়ায় আম পাকানো হলে বা পাকানোর উদ্দেশ্যে মজুদ করা হলে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন -২০০৯’ এবং ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ অনুয়ায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে|
এদিকে গত দুই বছরের তুলনায় এবার বেশ আগে ভাগেই আম সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে| এ কারনে আম ক্রেতাদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে| তারা বলেন, গত দুই বছরের তুলনায় এবার আবহাওয়া অনেক ঠান্ডা| &এপ্রিল-মে মাস জুড়ে মাঝে মধ্যে ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে| এ কারনে আমসহ অন্যান্য ফল দেরিতে পাকবে বলে মনে করছেন অনেকে| তবে আম দেরিতে পাকলেও সংগ্রহ অভিযান দুই বছর আগের তুলনায় এক সপ্তাহ এগিয়ে নেয়া হয়েছে| আম পুষ্ট হওয়ার আগেই গাছ থেকে পাড়লে, সেই আম রেখে দিলে বেশিরভাগ আম পচে নষ্ট হয়ে যায়| আগে ভাগে আম পাড়লে ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও, ক্রেতারা আম কিনে লোকসান গুনবেন|



