জীবননগর অফিস
জীবননগর পৌরসভার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদীর উপর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে নির্মাণাধীন সেতুর কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সেতু নির্মাণে নিম্নমানের ইট, বালিমিশ্রিত পাথর ও নিম্নমানের ঢালাই সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ৪১ মিটার দীর্ঘ আর্চ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজ চলছে। প্রায় ৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকার চুক্তিমূল্যের এই কাজের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত। যেখানে উন্নতমানের কালো পাথর দিয়ে ঢালাই কাজ করার কথা, সেখানে বালিমিশ্রিত সাদা পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া সোলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত ইটও নিম্নমানের। স্থানীয় কয়েকজন জানান, “দীর্ঘদিন পর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হচ্ছে। কিন্তু শুরু থেকেই কাজে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করলে কিছু লোক বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, কাজ সিডিউল অনুযায়ী করা হচ্ছে। ব্যবহৃত ইটগুলো এক নম্বর হিসেবেই কেনা হয়েছে। যদি কোনো ইট নিম্নমানের প্রমাণিত হয়, তবে তা পরিবর্তন করা হবে। পাথরের সঙ্গে বালি মিশ্রিত থাকার বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়, “এই পাথরগুলো অন্য একটি সাইট থেকে আনা হয়েছে। বর্তমানে যেভাবে আছে সেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। পানি দিয়ে ধুয়ে বালি আলাদা করে পরিষ্কার পাথর দিয়েই কাজ করা হবে।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রকৌশলী সালাউদ্দিন বলেন, “স্থানীয়রা চাইলে কাজের সিডিউল আমরা দেখাবো। নিম্নমানের সামগ্রীর অভিযোগ পুরোপুরি সঠিক নয়। সোলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত কিছু ইটে সমস্যা দেখা দেওয়ায় আমরা সেই কাজ আপাতত বন্ধ রেখেছি। তবে অন্য কাজগুলো ঠিকভাবেই চলছে।” বিকল্প রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি। যদি বড় ধরনের সমস্যা থাকতো, তাহলে কাজ শুরুর সময়ই স্থানীয়রা বাধা দিতো।”
এ বিষয়ে এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী আসিফ মোহাম্মদ তন্ময় বলেন, “নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়। সোলিংয়ের নিচে বালি দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। সাধারণ মানুষ না বুঝে এসব অভিযোগ তুলছেন। এছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং ভাষায় সাদা বা কালো পাথর বলে কিছু নেই। নির্ধারিত মান অনুযায়ী অ্যাগ্রিগেট ব্যবহার হলেই কাজ করা যায়।” তিনি আরও বলেন, “স্থানীয়রা চাইলে ড্রয়িং ও সিডিউল দেখে বুঝে নিতে পারবেন। কাজে কোনো দুর্নীতি হচ্ছে না।”



