স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন জালিয়াতির মামলায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দর্শনা পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-বেগমপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও চুয়াডাঙ্গা শহরের কেদারগঞ্জ মালোপাড়ার মৃত রজব আলীর ছেলে রায়হান মাহমুদ (৩৫) ও উদ্দ্যোক্তা বেগমপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে আরিফুল ইসলাম (৩০)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ মে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্রের অফিসিয়াল মোবাইল নম্বরে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি অভিযোগ দেন যে, যথাযথ কাগজপত্র ছাড়াই বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের নামে বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখা যায়, মৌলভীবাজারের মোহাম্মদ শহিদ মিয়া এবং কুমিল্লার বিল্লাল নামে দুই ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন বেগমপুর ইউনিয়নের ঠিকানা ব্যবহার করে করা হয়েছে। অথচ তারা কেউই ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নন এবং স্থানীয় লোকজনও তাদের চেনেন না।
এ ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আমিনুল ইসলাম সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পান। তদন্তে আরও উঠে আসে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলার লোকজনের নামে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে জন্মনিবন্ধন তৈরি করে আসছিলেন। এজাহারে আরও বলা হয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য ব্যবহৃত ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার অনুমোদিত আইডি বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যবহারের কথা থাকলেও তা ব্যবহার করতেন উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা প্রয়োজনীয় প্রমাণ ছাড়াই জন্মনিবন্ধন তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র বিষয়টি তদন্ত করে জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে অবহিত করেন। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে এজাহার দায়ের করা হয়।
মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ২১(১), ২১(২), ২৭(১) ও ২৭(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। দর্শনা থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হিমেল রানা বলেন, গ্রেফতারকৃতরা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে।



