চুয়াডাঙ্গায় এসএসসি ও সমমানের বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষায় ৯৫৪৮ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ, অনুপস্থিত ১৭২পরীক্ষা শেষে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর সন্তোষ প্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসএসসি, কারিগরি, দাখিল ও সমমানের বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিস এবং বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমানের বাংলা (১ম পত্র) পরীক্ষায় মোট পরীক্ষায় মোট ৯ হাজার ৫৪৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করেন। কঠোর নিরাপত্তা মধ্য দিয়ে জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। ১৭২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিতি ছিলো। তবে পরীক্ষায় কোন শিক্ষার্থী বহিস্কারের ঘটনা ঘটেনি। সকাল ৯টা বাজার পূর্বে থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে দেখা গেছে। প্রথম দিন অভিভাবকদের মধ্যে ছিলো একটি চাপা উত্তেজনা। পরীক্ষা শেষে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী হাসি মুখে বের হয়েছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ পত্র ছাড়া কোন কিছুই নিয়ে হলে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। ক্লিপ বোর্ড ও মোবাইল বাদেই শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ করতে হয়েছে। এতে অনেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন সাদা ক্লিপ বোর্ড নিতে দেয়নি, এটা অন্যায়।
গতকালের পরীক্ষায় তিনটি বিভাগে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৭২০ জন। এর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৯ হাজার ৫৪৮ জন এবং  অনুপস্থিত ছিল ১৭২ জন শিক্ষার্থী। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ৭ হাজার ৩৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৭ হাজার ২৮৯ জন। অনুপস্থিত ছিল ১০৩ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১ হাজার ৩৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৩৪৬ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এখানে অনুপস্থিতির সংখ্যা ২০ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় মোট ৯৬২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৯১৩ জন। অনুপস্থিত ছিল ৪৯ জন।
পরীক্ষা শুরুর পূর্বে থেকেই আশেপাশের সকল কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান বন্ধ ছিল। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষায় ব্যবহৃত কলম, পেন্সিল ও এডমিট কার্ড ব্যতিত অন্য কিছু নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করায় ছিল নিষেধাজ্ঞা। কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস নিয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জেসমিন আরা বলেন, জেলায় মোট ৯ হাজার ৫৪৮ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের ১ম পরীক্ষা বাংলা (১ম পত্রে) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। মোট পরীক্ষার্থী অনুপস্থিতির সংখ্যা ছিল ১৭২ জন। প্রতিটি কেন্দ্রে নকলমুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ছিল। পরীক্ষা কেন্দ্র গুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ও কঠোর নজরদারি ছিল কাউকে কোন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বি.এম তারিক উজ জামান বলেন, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করা ছিলো। এছাড়া জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের নেতৃত্বে একাধিক টিম বেশ কিছু কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।