আলমডাঙ্গায় বৈশাখী অনুষ্ঠানে পান্তা-ভাত বিতরণকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে মারধর, তদন্তের নির্দেশ জেলা প্রশাসকের

আলমডাঙ্গা অফিস
পহেলা বৈশাখের আনন্দঘন আয়োজন মুহূর্তেই উত্তেজনায় রূপ নেয় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায়। উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সরকারি বৈশাখী অনুষ্ঠানে পান্তা-ভাত ও মাছ বিতরণের সময় এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা চেয়ারম্যানের সিএ সোহেল রানার বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে সনেট আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তি আহত হন। তিনি পৌর এলাকার স্টেশনপাড়ার মৃত তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তার নাক ফেটে রক্তপাত হয় এবং পরে তাকে স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা চত্বরে পান্তা-ভাত বিতরণ চলছিল। এ সময় খাবার নিতে গেলে সনেট আলীর সঙ্গে সোহেল রানার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।
আহত সনেট আলীর পরিবারের অভিযোগ, কোনো উসকানি ছাড়াই ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তারা ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তবে অভিযুক্ত সোহেল রানা ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেছেন। ঘটনার পর উপজেলা পরিষদ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মতে, সরকারি অনুষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার জানিয়েছেন, ঘটনাটি আমলে নেওয়া হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, যথাযথ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।