মেহেরপুর অফিস
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নের ভোলাডাঙ্গা গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার অফিস এক্সিকিউটিভ তারেক আহমেদসহ একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত অন্যরা হলেন-ইসমাইল হোসেনের ছেলে মশিউর রহমান এবং জামাতা রকিবুল ইসলাম।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভোলাডাঙ্গা গ্রামের ইসমাইল হোসেনের কাছ থেকে তাঁর আপন চাচাতো ভাই রওশন, বিশারত ও নাসির ৪ শতক জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে জমির কাগজপত্র ও সরেজমিনে জমির পরিমাপ নিয়ে কিছু জটিলতা দেখা দিলে রওশন বিষয়টি ইসমাইল হোসেনকে জানান। ইসমাইল হোসেন সমস্যাটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বিজ্ঞ আদালতে একটি রেকর্ড সংশোধনের মামলা দায়ের করেন। তবে রওশন ও তাঁর ভাইয়েরা আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার অপেক্ষা করতে রাজি ছিলেন না।
এই জমি সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে রওশন, আব্দুস সামাদ, রবিউল ইসলাম ও সাগরের নেতৃত্বে একদল লোক ইসমাইল হোসেনের জামাতা ও দুই ছেলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় যুগান্তর পত্রিকার অফিস এক্সিকিউটিভ তারেক আহমেদের ডান হাতের শাহাদাত আঙুল মারাত্মকভাবে থেঁতলে যায়। এছাড়া মশিউর রহমান ও রকিবুল ইসলাম লাঠিসোঁটার আঘাতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হন।
হামলার মুখে প্রাণভয়ে আহতরা দৌড়ে স্থানীয় মিরু মালিথার বাড়িতে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।
আহতের বোন পলি খাতুন জানান, ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে গাংনী নিয়ে আসলে পরে দ্বিতীয়বারের মতো আবারো তাদের বাড়িতে হামলা করে গেট এবং প্রাচীর ভাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে গাংনী থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
গাংনী থানা ভারপ্র্প্তা কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, ভোলাডাঙ্গা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাংনীর ভোলাডাঙ্গা গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে আহত ৩



