আলমডাঙ্গা-আসমানখালী সড়কের মাঝখানে বিদ্যুৎ খুঁটি রেখেই চলছে রাস্তা সংস্কারের কাজ

আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গা থেকে আসমানখালী পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন কাজ চলমান থাকলেও রাস্তার মাঝখানে বিদ্যুৎ খুঁটি অপসারণ না হওয়ায় চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা।
জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নড়াইল জেলার মেসার্স ইডেন এন্টারপ্রাইজ এই কাজটি পায়। যা প্রায় ১০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়টিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ কোটি ৮৪ লক্ষ ৯২ হাজার ৭ শত ৫০ টাকা। সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ সালে। প্রকল্পের নির্ধারিত সমাপ্তির সময় ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই। তবে কাজের অগ্রগতি দৃশ্যমান হলেও বিদ্যুৎ খুঁটি স্থানান্তরের বিষয়টি এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিংসহ উন্নয়ন কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। কিন্তু রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা বিদ্যুৎ খুঁটিগুলো অপসারণ না করায় চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অনেক স্থানে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সামান্য অসতর্কতায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সড়কে (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড)-এর মোট ৪১টি বিদ্যুৎ খুঁটি রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২৮টি খুঁটি এখনো সড়কের মাঝখানেই রয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তা উন্নয়ন হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু মাঝখানে খুঁটি রেখে দিলে সেই উন্নয়নের সুফল মিলবে না। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের আবাসিক প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ শাহিন বলেন, বিদ্যুৎ খুঁটি স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট নির্ধারণ করে এলজিইডিকে জানানো হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বাজেট সরবরাহ করলেই খুঁটি অপসারণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) তাওহিদ আহম্মেদ বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ খুঁটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কের মাঝখানের খুঁটিগুলো সরিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হবে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, জননিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বিদ্যুৎ খুঁটি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি থাকলেও আন্তঃদপ্তর সমন্বয়ের ঘাটতিতে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। প্রায় সমাপ্তির পথে থাকা প্রকল্পে বিদ্যমান এ জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সড়কটিকে নিরাপদ করে তুলতে পারে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।