চুয়াডাঙ্গায় বুধবার ১৩টি পেট্রোল পাম্প ও ৮টি এজেন্ট পয়েন্টে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬০৫লিটার জ্বালানী তেল সরবরাহের পরেও দুপুরের মধ্যে তেল শূন্য হয়ে পড়ে পাম্পগুলো

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় গতকাল বুধবার ১৩টি পেট্রোল পাম্প ও ৮টি এজেন্ট পয়েন্টে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬০৫ লিটার জ্বালানী তেল সরবরাহ করা হয়েছে| চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে| গতকাল বুধবার সকাল ৭টা থেকে বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও কৃষকদের মধ্যে এ তেল সরকারী মূল্যে বিক্রি করা হয়| তবে কয়েক দিনের তুলনায় পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল চালকদের তেল নিতে যে দীর্ঘ লাইন ছিলো গত সোমবার থেকে কিছুটা হলেও কম দেখা যাচ্ছে| এরপরেও বেশিভাগ পাম্পে বেলা ২টার মধ্যে তেল শূন্য হয়ে যায়| অনেকে তেল না পেয়ে ফিরে যান|
চুয়াডাঙ্গা জেলার ৪ উপজেলায় ২২টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে| এর মধ্যে ১৩টি ফিলিং স্টেশনে বুধবার সকাল থেকে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করা হয়| এর বাইরে ৮টি ডিলার পয়েন্টে ডিজেল তেল দেয়া হয়| মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহন চালকদের তেল নিতে ফুয়েল কার্ড ও কৃষকদের কৃষি কার্ড দেখাতে হচ্ছে| কার্ড বিহীন কাউকে তেল দেয়া হচ্ছে না| বেশ কয়েকদিন ধরে প্রশাসনের নানামুখী উদ্যোগের ফলে তেল ক্রয়ে কিছুটা হলেও শৃঙ্খলা ফিরেছে|  এর আগে ১ মাসের অধিক সময় ডিলার পয়েন্টে তেল সরবরাহ বন্ধ ছিলো|
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার গণমাধ্যমে পাঠানো এক তথ্য বিবরণীতে জানান, জেলার ৪ উপজেলায় বুধবার ১৩টি ফিলিং স্টেশন ও ৮টি ডিলার পয়েন্টের মাধ্যমে পেট্রোল ৩৩ হাজার লিটার, অকটেন সাড়ে ৮ হাজার লিটার ও ডিজেল বিক্রি করা হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ১০৫ লিটার| এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদরে মোজাম্মেল হক ফিলিং ষ্টেশনে ডিজেল সাড়ে ৪ হাজার লিটার, অকটেন ২ হাজার লিটার, পেট্রোল ৩ হাজার লিটার, হাইওয়ে ফিলিং ষ্টেশনে (ডিঙ্গেদহ) ডিজেল সাড়ে ৪ হাজার লিটার, পেট্রোল ৩ হাজার লিটার, জোয়ার্দ্দার পেট্রোলিয়ামে ডিজেল সাড়ে ৪ হাজার লিটার, অকটেন ২ হাজার লিটার, পেট্রোল ৩ হাজার লিটার, সুগন্ধা ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ৬ হাজার লিটার, পেট্রোল ৩ হাজার লিটার, মামুন ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ৯ হাজার লিটার, মনিরুল ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ৯ হাজার লিটার, চুয়াডাঙ্গা ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ৬ হাজার লিটার, অকটেন আড়াই হাজার ২ লিটার|
জীবননগর উপজেলায় নাসিম ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল সাড়ে ৪ হাজার লিটার, ডিজেল ৬ হাজার লিটার, অঙ্কন ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ৪ হাজার লিটার, পেট্রোল সাড়ে ৪ হাজার লিটার, জীবননগর ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ৯ হাজার লিটার, পেট্রোল ৩ হাজার লিটার|
দামুড়হুদা উপজেলায় এম এম ফিলিং স্টেশনে (কার্পাসডাঙ্গা) ডিজেল সাড়ে ৪ হাজার লিটার, পেট্রোল সাড়ে ৪ হাজার লিটার| আলমডাঙ্গা উপজেলায় এনামুল হক ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ৯ হাজার  লিটার, অকটেন ২ হাজার লিটার,  উত্তরা ফিলিং স্টেশনে ডিজেল সাড়ে ৪ হাজার লিটার, পেট্রোল ৪ হাজার লিটার|
এছাড়াও এজেন্ট পয়েন্টে সোহেল ট্রেডার্স (দামুড়হুদা) ডিজেল ৩ হাজার লিটার, মানিক এন্ড ব্রাদার্স (সদর) ডিজেল ৬ হাজার লিটার, জোয়ার্দ্দার ট্রেডার্স (মুন্সিগঞ্জ,আলমডাঙ্গা) ডিজেল ৬ হাজার লিটার, সাইফ ফুয়েল (জীবননগর) ডিজেল ৯ হাজার লিটার, হাসান অটোমোবাইল (দামুড়হুদা) ডিজেল ৫ হাজার ৮০৫ লিটার, ওয়াহেদ ট্রেডার্স (দামুড়হুদা) ডিজেল ৬ হাজার ৩০০ লিটার, মেসার্স ইব্রাহীম ট্রেডার্স আলমডাঙ্গা, ডিজেল সাড়ে ৪ হাজার লিটার, মেসার্স আর এস ইন্টারন্যাশনাল আলমডাঙ্গা, ডিজেল ৬ হাজার লিটার|
জেলা প্রশাসন থেকে আরো জানানো হয়েছে ফুয়েল কার্ড দিয়ে ফিলিং স্টেশন হতে পেট্রোল বা অকটেন নেওয়া  যাবে| ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়ন সাপেক্ষে ফিলিং স্টেশন অথবা এজেন্ট পয়েন্ট হতে ডিজেল সংগ্রহ করা যাবে| আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ম মেনে জ্বালানী সংগ্রহ করা এবং পরিমিত তেল ব্যবহার করার আহবান জানান| এদিকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুদ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|
অপরদিকে আজ বৃহস্পতিবার জেলায় ১ লাখ ৯ হাজার ৯শ লিটার ডিজেল, ১৫ হাজার লিটার পেট্রোল ও ১১ হাজার অকটেন বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে সরবরাহ করা হবে বলে জানা গেছে| এর মধ্যে ৯টি ফিলিং স্টেশন ও ১২ টি এজেন্ট পয়েন্ট রয়েছে|

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।