স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গার নবাগত জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহারের সাথে জেলার সকল জ্বালানি তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের এজেন্টদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফুন নাহার। সভায় জেলার জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি, সঠিক ওজন নিশ্চিতকরণ, নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের বলেন, যারা ঘরে বা গুদামে তেল মজুদ করছেন এটি কিন্তু খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সামনে তীব্র গরমের আশঙ্কা করা হচ্ছে এই তীব্র গরমে যদি সামান্য আগুনের স্ফুলিঙ্গ এই জ্বালানী তেলের সংস্পর্শে আসে তাহলে এটি একটি বোমায় রূপ নেবে। মুহূর্তেই ধ্বংস করে দেবে সব অবকাঠামো। এক দিনের সময় দেওয়া হচ্ছে সকলেই যেন মজুদকৃত তেল প্রশাসনের নিকট এসে জমা দিয়ে যায়। পরবর্তীতে কারো কাছে মজুদকৃত তেল পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি.এম তারিকউজ জামান বলেন, জেলায় ২২টা ফিলিং স্টেশন এবং ৪৬ টা এজেন্সিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই জেলাতে তেলের সংকট কেটে যাবে। তবে যে সকল কৃষকেরা পাম্পে এসে লাইন দিচ্ছেন তাদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণে তেল দেওয়া যাবে না।
জেলা প্রশাসক উপস্থিত এজেন্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, জ্বালানি তেল একটি জরুরি সেবা। জনভোগান্তি রোধে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বচ্ছতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, মোটরসাইকেলে ৩ লিটারের বেশি তেল থাকলে সেই বাইক যদি পাম্পে তেল নিতে আসে তাহলে সেটি আটক করা হবে। রাতে পাম্পে যে মোটরসাইকেল থাকবে সেটিকে আটক করে থানায় নিয়ে এসে মামলা দেওয়া হবে। আলমডাঙ্গা এবং জীবননগর উপজেলার তেল পাম্পগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই তারা প্রত্যেকটি পাম্পে সকাল থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। পাঁচটি থানার ওসিকে দায়িত্ব দেওয়া হল ভুয়া কৃষক আটকের জন্য। যে সর্বপ্রথম ভুয়া কৃষক আটক করতে পারবে তাকে পুরস্কৃত করা হবে। কয়েকজন ভুয়া কৃষককে আটক করলেই পাম্পে আর কৃষকদের এই দীর্ঘ লাইন থাকবে না বলে আমি আশাবাদী।
সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদ, সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মিজানুর রহমান, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার্স ইনচার্জ বানি ইসরাইল, জীবননগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাস, দামুড়হুদা থানার অফিসার্স ইনচার্জ হুমায়ুন কবীর, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহআলম সনি, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপি’র সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জেলার বিভিন্ন জ্বালানি তেল বিপণন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও এজেন্টবৃন্দরা।
চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেল এজেন্টদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার২২টা ফিলিং স্টেশন ও ৪৬ এজেন্সিতে তেল দেয়া হচ্ছে, ভুয়া কৃষক আটক করলে পুরস্কৃত করা হবে



