স্টাফ রিপোর্টার
তেল সংকটের গুঞ্জনের পর চুয়াডাঙ্গার পেট্রোল পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রথম দিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কার্ড বিতরণ করা হলেও অতিরিক্ত ভিড় ও জনভোগান্তির কারণে পরবর্তীতে প্রতিটি উপজেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো উপজেলা পরিষদগুলোতে ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়।
দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ফুয়েল কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষাও করতে হয় গ্রাহকদের। তবে অপেক্ষার পর নিজেদের কাঙ্খিত সেই কার্ড হাতে পেয়ে তাদের চোখে মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। উপজেলা পরিষদ থেকে কার্ড বিতরণ করায় তাদের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হয়েছে বলে জানান অনেকেই। গতকাল মঙ্গলবার জেলার ৪ উপজেলায় ফুয়েল কার্ডের জন্য ২০ হাজারের অধিক মানুষের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার।
গত রবিবার জেলা প্রশাসনের এক সভায় জানানো হয়, ৩০ ও ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে যানবাহনের জন্য ফুয়েল কার্ড বিতরণ শুরু হবে। কার্ড সংগ্রহ করতে হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। আজ ১লা এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেল বিতরণ কার্যক্রমের কথা থাকলেও তা পরবর্তীতে বাড়িয়ে ২ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। প্রথম দিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কার্ড বিতরণে জনগণের অতিরিক্ত ভোগান্তি হওয়ায় পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ থেকে ফুয়েল কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম।
ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে এসে মোটরসাইকেল চালক নাজমুল হাসান বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফুয়েল কার্ড নেওয়ার জন্য কাগজপত্র জমা দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে দীর্ঘ লম্বা লাইন দেখে জমা দিতে পারিনি। আজ উপজেলা পরিষদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছি এখন কার্ডটি হাতে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। তবে প্রশ্ন একটা থেকেই যায়, এই ফুয়েল কার্ড পেয়েও আমাদেরকে পাম্পে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে না তো?
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহক আবু সাঈদ বলেন, সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে ফুয়েল কার্ড নেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। গাড়ির কাগজপত্র জমা দিলে কার্ড দিচ্ছে। এই কার্ডটি পেলে হয়তো আমার জ্বালানি তেলের জন্য আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না। আমি একটি কোম্পানির চাকরি করি। প্রতিদিনই মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া লাগে। কিন্তু তেলের এই সংকটে আমার পাম্পেই কেটে যায় দিনের অধিকাংশ সময়। ফুয়েল কার্ডটি পেলে খুব দ্রুতই তেল পেয়ে যাবো। এতে আমার বেশি সময় নষ্ট হবে না এবং আমি কাজেও মনোনিবেশ করতে পারব।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক উজ জামান বলেন, গত দুই দিনে ২০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২০ হাজার ফুয়েল কার্ড গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আমরা মোট ৩৫ হাজার কার্ড ছাপিয়েছি। আজ বুধবারের জন্য প্রতিটি উপজেলায় ৩ হাজার করে অর্থাৎ ১২ হাজার কার্ড দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও উপজেলা পরিষদে যানবাহন মালিকদের উপচে পড়া ভিড় চুয়াডাঙ্গায় দুই দিনে ২০ হাজার গ্রাহকের মাঝে ফুয়েল কার্ড বিতরণ



