দর্শনা রেলবাজারে গড়ে উঠছে অপরিকল্পিত মার্কেট ফুটপথে বসছে দোকান, নীরব পৌর প্রশাসন

দর্শনা অফিস
দর্শনা পৌরসভার রেলবাজারের পাঁয়ে হাটা পথটিও এখন কতিপয় ব্যবসায়ীর দখলে চলে গেছে, রাস্তার উপরের বসছে শাকসব্জির দোকান, ফলের দোকান কিম্বা আছে মুদি দোকানীর তেলের ড্রামসহ হরেক রকমের পণ্যসম্ভার। ফলে বাজারে আসা ক্রেতাদের ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে পণ্য সংগ্রহ করাও দায় হয়ে গেছে। রেলবাজারে একের পর এক বহুতল মার্কেট গড়ে উঠলেও রাখা হচ্ছেনা পার্কিংয়ের জায়গা। বেশ কয়েক বছর ধরে দখলের এই রামরাজত্ব চললেও বাজার কমিটি কিম্বা পৌর কর্তাদের নেই মাথা ব্যাথা।
সরেজমিনে দেখাগেছে- দর্শনা পৌরবাসীর নিত্যপণ্যের রেলবাজারটির বর্তমান বেহাল অবস্থা। রেলবাজার বটতলা থেকে প্লাটফরম পর্যন্ত সরু এই সড়কটির কোথাও ঘর মালিকরা এক ইঞ্চি জায়গাও ক্রেতা দাড়ানোর জন্য ছাড় দেননি। রেলবাজারের আশরাফন সপিং সেন্টারের ৪ তলা (একসময়ের ব্যাংক ভবণ) থেকে শুরু করে ছোট ছোট মার্কেট, সাবেক এমপি টগরের আকাশ সপিং সেন্টার কিম্বা মনোরঞ্জন মার্কেট পর্যন্ত কোথাও পার্কিংয়ের জায়গা রাখা হয়নি। সবেমাত্র গড়ে ওঠা এসব মার্কেট কিভাবে পৌর কর্তাদের অনুমতি পেয়েছে সেটাও তদন্তের দাবী রাখে। এসব মার্কেটে এসে ক্রেতাদের পার্কিংয়ের জায়গার খোঁজে ঘুরে ঘুরে বেড়াতে হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে মোটর সাইকেল রাখার জায়গাটুকুও না পেয়ে অনত্র রেখে সাইকেল/মোটর সাইকেল হারানোর ঘটনা ঘটেছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বর্তমানে রেলবাজারের ভিতরের অংশের বটতলা থেকে প্লাটফর্ম পর্যন্ত। সরু এই রাস্তায় সারা বছরই ক্রেতাদের পাশাপাশি ভ্যান, মোটর সাইকেল, সাইকেলসহ ছোট ছোট গাড়ীর চাপ থাকে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে দোকানীদের পণ্য নিয়ে দোকানের সামনের রাস্তা দখল করে পণ্য সাজিয়ে অবাধে বিক্রি করার প্রবণতা। ফলে ক্রেতাদের পক্ষে মোটরসাইকেল তো দূরে থাক পায়ে হাঁটাও বর্তমান অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে। রেলবাজারের ভিতরে অংশে রয়েছে কাচাবাজারের জন্য স্বতন্ত্র মার্কেট। বেশ কয়েক বছর আগে বিল্লাল ও সোহেল নামের দুই তরকারী ব্যবসায়ী নির্ধারিত স্থান ফেলে রাস্তার উপর দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করে। এখানে এই দুই জনের ব্যবসা ভালো হওয়ায় তাদের দেখাদেখি অন্যরাও একে একে রাস্তা দখল শুরু করে। বর্তমানে দোকানের বাইরে এসে যারা রাস্তা দখল করে ব্যবসা করছে এদের মধ্যে রয়েছে ফল ব্যবসায়ী- আলী আকবার দুদু, লাল্টু, হান্নান ও রহিম, জুতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে দাউদকান্দি সু, মা-মনি সু, তরকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাবু, মিলন, সোহেল, বশির, বোরহান ও কলিম, মুদি ব্যবসায়ীদের মধ্যে কলেজ শিক্ষক বাহাদুর, ইসমাঈল, নজরুল, এমআর স্টোর, রফিকুল অন্যতম। তবে রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতিই একমাত্র ব্যবসায়ী যার দোকানীর সামনের অংশে কোন মালামাল নেই। সবচেয়ে অগ্রহনযোগ্য বিষয় হলো চলাচলের সরু রাস্তাটিতেও এরা পিক আওয়ার অর্থাৎ বেলা ১২টার সময়ও গতকাল দেখা যায় এমআর স্টোরের ভ্যান ভর্তি মালামামাল এনে পুরারাস্তা বন্ধ করে আনলোড করা হচ্ছে অথচ এই কাজটি স্বাভাবিকভাবে করার কথা রাতের নিরিবিলি সময়। সবচেয়ে অমার্জনীয় ঘটনা হলো রেলবাজারের কোটিপতি ব্যবসায়ী রাজধানী স্টোর তার গোডাইনের সামনে ১ ইঞ্চি জায়গা না থাকা সত্ত্বেও রাস্তা দখল করে ফল ব্যবসায়ীদের নিকট ২ দোকান ভাড়া দিয়েছে।
আবার বাজারের ভিতরের অংশে দেখা যায়- মাংশ ব্যবসায়ীরা সরু রাস্তার এক পাশে মাংশ ঝুলিয়ে রেখেছে আর অপর অংশে বেঞ্চ পেতে খরিদ্দার ডাকছে। বাজারে আসা ক্রেতারা তাদের অতিক্রম করতে গেলে হয় মাংশের রক্ত কাপড়ে লাগবে নতুবা অপর দিকের বসে থাকা হকারদের গায়ের উপর দিয়ে যেতে হবে, যেটা বাজারে আসা সন্মানীতা মা-বোনদের জন্য বিব্রতকর হলেও এরা যেন নির্লজ্জের মতো তা উপভোগ করে। বাজারের এসব দেখার দায়িত্বপ্রাপ্তরা চোখ বুজে থাকায় সাধারন ক্রেতারা অনেকটা অসহায়।
প্লাটফর্ম সংলগ্ন বাজার কমিটির পুরাতন অফিসের সামনের অংশে যেখানে আগে ক্রেতারা সাইকেল, মোটর সাইকেল রাখতেন সেখানে এখন মুদি দোকানীরা দখল করে তেলের ড্রাম রাখায় সেটাও সংকুচিত হয়েগেছে। ফলে সাইকেল-মোটরসাইকেল রাখার জন্য জায়গা খালি হবার অপেক্ষা করতে হয়। বাজারের মালিক সমিতির নির্বাচনের সময় নিরাপত্তার কথা বলে প্রতিবার ভোট নেবার জন্য প্রার্থীরা সিসি ক্যামেরা লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও গত ২ যুগেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। দর্শনা সারাদেশে পরিচিত নাম হলেও এখানকার দায়িত্বশীলরা যেন দর্শনাকে লুকাতে ব্যস্ত।
দর্শনা রেলবাজারের এসব সমস্যার বিষয়ে দর্শনা পৌর সভার দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক ও দামুড়হুদার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শাহিন আলমের সরকারী নাম্বারের বারবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে দর্শনা দোকান মালিক সমিতির সেক্রেটারী হাজী আনোয়ার হোসেন রতন জানান- আমরা অবৈধ দোকান সরানোর জন্য ব্যবসায়ীদের বারবার অনুরোধ করেছি কিন্তু তারা সেটা আমলে নেয়নি।
দর্শনা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন জানান- আমাদের অনুরোধ কেউ আমলে না নেয়ায় আমরা প্রশাসনের শরনাপন্ন হয়েছি। তাছাড়া আইনগত কতৃত্ব সবই পৌর প্রশাসকের। কিন্তু তারা ওয়াদা করা সত্ত্বেও অদ্যবধি নূন্যতম কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় বর্তমান জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগীতা চাই।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।