স্টাফ রিপোর্টার
আলমডাঙ্গার নারীঘটিত অপপ্রচারের মাধ্যমে সম্মানহানীর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আব্দুর রহিম নামের এক শিক্ষক। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে তিনি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রহিম বলেন, আমি আব্দুর রহিম, পিতা: বাবলু মন্ডল, গ্রাম: শালিকা, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা। পেশায় আমি একজন শিক্ষক, আমি বেশ কিছুদিন ধরে একশ্রেণীর কালপিট দুশ্চরিত্র হলুদ সাংবাদিক সমাজের মানুষকে ব্ল্যাকমেল করে নিজে ছোট হচ্ছে এবং ভালো সাংবাদিকদের ও বদনাম হচ্ছে, দুই বছর আগে এক পুলিশ অফিসারের বিপক্ষে আমি এসপি স্যার মহোদয়ের কাছে কমপ্লেন জানাইছিলাম, এসপি স্যার মহোদয় সেটা তদন্ত করছিলেন এবং সত্যতা পায় পাওয়াই, পুলিশ অফিসারকে এখান থেকে বদলি করে দেয়, কিন্তু যাওয়ার সময় আমাকে বলে যায় আমি একদিন না একদিন তোমাকে দেখে নেব। হঠাৎ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ একটি মেয়ে আমাকে ফোন দেয়, আমার পরিচয় নেই এবং বলে সরি ভাইয়া রং নাম্বার, ২৯ শে সেপ্টেম্বর আমাকে ভয়েস মেসেজ দেয়, এরপরে মাঝে মাঝে আমাকে ভিডিও ফোনে ফোন দিতে থাকে, বিষয়টি আমি আমার স্ত্রী এবং আত্মীয়-স্বজন, সহ পিবিআই অফিসারকে জানাই, যে আমার সন্দেহ আছে এই মেয়েটি কোন না কোন উদ্দেশ্যে কথা বলতেছে, তখন অনেকেই আমাকে অবগত করায়, এই মেয়ের সাথে কথা বলা যাবে না. কিন্তু আমার একটি উদ্দেশ্য ছিল এই মেয়ে কোথায় থেকে এসেছেকে পাঠাইছে এটা জানার জন্য আমি তার কথায় সাই দিয়ে কিছু কথা বলেছি এবং একদিন ডাক্তার দেখানো নাম করে চুয়াডাঙ্গাতে আসে এবং আমাকে জানায়, আমি তখন কিছু মানুষদেরকে বললাম যে এই মেয়েটি এসে কোন উদ্দেশ্যে কে পাঠাইছে এই মেয়েটার ডিটেলসটা কি আমাকে জানায় দিতে পারবেন, তখন তাহারা থেকে মেয়েটির সাথে সেলফি ওঠে ভালো ব্যবহার করে, করার পরে তাদেরকে ওই মেয়েটিকে প্রশ্ন করে তখন মেয়েটি কান্নাকাটি করে আর ফোন দেবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়। ডিসেম্বর ২০২৫ এরপরে আর ফোন দেই নি। কিন্তু আমাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে, ফেসবুকের মাধ্যমে আমাকে সম্মানহানি করা হচ্ছে, এমতাবস্থায় আমি এসপি মহোদয়ের কার্যালয় একটি অভিযোগপত্র দায়ের করি, আলমডাঙ্গা থানাতেও একটি অভিযোগপত্র দায়ের করি, আমি এখন পর্যন্ত এর কোন সুরাহা পাইনি, এই মেয়েসহ মেয়ের সাথে যারা জড়িয়ে আছে এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এর প্রতিকার চাই, আমার মতন বিপদে যেন আর কেউ না পড়ে সেই কাম্য করি, এর সাথে যুক্ত আছে আলমডাঙ্গার হলুদ সনজু, সে বেশ কিছুদিন আগে আমার কাছে এসেছিলেন আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, এই মেয়ে সম্পর্কে অনেক তথ্য দেয় তার বাড়ি নাকি ঝাউদি কুষ্টিয়া, কিন্তু ২৯ শে সেপ্টেম্বর ২০২৫ এ যে ভয়েজ মেসেজ দেয় তাতে পরিচয় দেয় ঝিনাইদহ বাসা, একটি ভিডিও ছাড়ে তাতে ওই মেয়েটি বলে পাঁচ বছরের সম্পর্ক এবং সনজু সাংবাদিকই একই কথা বলে পাঁচ বছরের অবৈধ সম্পর্ক আছে আমার সাথে ওই মেয়ের পরবর্তীতে ওই মেয়ে একটি ভিডিও কাটিং করে বলে পাঁচ মাসের সম্পর্ক এবং বলে আমার কাছে থেকে তিন লক্ষ টাকা নেয় এই তিন লক্ষ টাকা কোথায় কিভাবে কার মাধ্যমে দিয়েছে আমি জানতে চাই। পরবর্তীতে সনজুর মাধ্যমে জানতে পারি এই মেয়ের বাসা এবং ওই পুলিশ অফিসারের বাসা একই গ্রামে এই মেয়ের নাম বলে প্রীতি সিনহা। আমি এই মেয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং এই মেয়ের সাথে যারা সহযোগিতায় আছে, এই চক্রের সাথে যারা জড়িয়ে আছে সবার আইন অনুগ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। একই সাথে তার বিরুদ্ধে সব ধরনের অপপ্রচার বন্ধের বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পরে ওই নারী কিছু অসাধু ব্যক্তির প্ররোচনায় বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার করতে থাকে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের কার্যালয় ও আলমডাঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে; কিন্তু কোন সুরাহা না হওয়ায় তিনি সংকিত। একই সাথে তার বিরুদ্ধে সব ধরনের অপপ্রচার বন্ধের বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, হাটবোয়ালিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মতিউল হুদা, সিনিয়র শিক্ষক আজমতুল হুদা, মনিরুজ্জামান, হাসিবুল ইসলাম, আব্দুল আলিম, সিএসআর মাধ্যমিক বিদ্যালয় সভাপতি আব্দুল মাবুদ, গাংনী ইউনিয়ন যুবদল সভপতি মো ডালিম রেজা, জাহিদ ইমরান, ফজরুল হকসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
নারীঘটিত অপপ্রচারের মাধ্যমে সম্মানহানীর অভিযোগ তুলে হাটবোয়ালিয়ার এক শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন



