ত্বক সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখবেন যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক


দেহের সবচেয়ে বড় অঙ্গটির নাম হলো ত্বক। ওজনের ক্ষেত্রে ত্বকের পরিমাণ দেহের মোট ওজনের ১৬ ভাগের ১ ভাগ। আয়তনের দিক থেকে প্রায় ২ বর্গমিটার। সম্ভবত সেই কারণেই ত্বককে বলা হয় দেহের বৃহত্তম অঙ্গ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ত্বককে বলা হয় খধৎমবংঃ ড়ৎমধহ ড়ভ ঃযব ইড়ফু.

ত্বকের কাজ : ত্বক দেহের সব অঙ্গ-প্রতঙ্গ ঢেকে আড়াল করে রাখে এবং ত্বককে দেয় নিরাপত্তা। ত্বক না থাকলে দেহের অভ্যন্তরীণ সব অঙ্গ অনাচ্ছাদিত অবস্থায় থাকত। ফলে আমারা কেউ বেঁচে থাকতে পারতাম না। ত্বকে আছে ঘর্মগ্রন্থি, আছে তৈলগ্রন্থি। সেখানে থেকে ঘাম আর তেল বের হচ্ছে নিয়মিত। এই ঘাম আর তেল মিলে দেহের ওপর একটি তেল আর পানির মিশ্রণ বা আবরণী তৈরি করে, যা দেহকে শীতল করে রাখে। ফলে ত্বক শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা পায়। এই ঘামের সঙ্গে দেহের অপ্রয়োজনীয় ও বর্জনীয় পদার্থ দেহ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। ফলে দেহকে দিয়ে থাকে সুস্থতা। দেহের এই বর্জনীয় পদার্থগুলো বেরিয়ে না গেলে দেহ অসুস্থ হয়ে পড়ত।

সূর্য়ের আলো কি ত্বকের ক্ষতি করে : সূর্যের আলোয় আলট্রাভায়োলেট বা অতিবেগুনী রশ্মি থাকে, যা ত্বকের ক্ষতি করে। কাজেই ত্বককে রক্ষা করতে হলে বিশেষ করে গরমকালে সান ব্লক ক্রিম ব্যবহার করতে হবে অথবা রৌদ্রে যাওয়া বন্ধ করতে হবে। তবে একদমই সূর্যের আলো না লাগানো উচিত নয়। কারণ সূর্যের আলো ত্বকের সংস্পর্শে এসে ভিটামিন-ডি তৈরি করে, যা আমাদের দেহের জন্য খুবই প্রয়োজন।

তেল কখন মাখতে হবে : তেল অবশ্যই গোসলের পরে মাখতে হবে। গোসলের আগে নয় আবার তেল মাখতে হবে শীতকালে; গরমকালে নয়। কারণ গরমকালে তেল মাখালে গায়ে ঘামাচি হবে আর শীতকালে তেল না মাখালে ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যাবে।

ঠোঁট ফাটলে যা ব্যবহার করতে হবে : ভ্যাসলিন, লিপজেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা উচিত। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো কখনোই উচিত নয়। এতে করে ঠোঁট ফাটা আরও বেড়ে যেতে পারে।

পা ফাটলে যা করবেন : অ্যাক্রোফ্লেভিন দ্রবণে পা টিকে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। তারপর পা-টা তুলে নিন। পা শুকিয়ে যাওয়ামাত্র ভ্যাসলিন মেখে দিন। খালি পায়ে হাঁটা অবশ্যই বন্ধ রাখতে হবে।

যে সাবান ব্যবহার করা উচিত : সুগন্ধিহীন সংরক্ষণের উপাদান বর্জিত সাবান ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া ত্বকে গ্লিসারিন পানি মিশিয়ে সারা শরীরেই ব্যবহার করা যায়। তাতে ত্বক ভালো থাকে। গ্লিসারিন মাখার পর শরীরে চিটচিটে ভাব দূর করার জন্য টাওয়েল দিয়ে চেপে অতিরিক্ত গ্লিসারিনটুকু তুলে নিলে আঠা আঠা ভাবটি কেটে যায়। এতে ত্বক ভালো থাকে।

সুত্র : আমাদের সময়

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *