দীর্ঘদিন পর ওটি চালু হলেও জনবল সংকটে আলমডাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার ব্যাহত

আলমডাঙ্গা অফিস
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর নতুন আশা ও উদ্দীপনা নিয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) পুনরায় চালু হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল সংকটে নিয়মিত অস্ত্রোপচার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ওটি চালুর পর এ পর্যন্ত মাত্র ছয়টি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসকের সংকটের কারণে নিয়মিত অস্ত্রোপচার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে এক্স-রে টেকনিশিয়ান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন পর ওটি চালু হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে তা পূরণ হচ্ছে না।
৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সমস্যার সময় জেনারেটর পরিচালনার জন্য সরকারি জ্বালানি বরাদ্দ না থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এ সমস্যা মোকাবিলায় নিজস্ব উদ্যোগে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ চলছে।
এদিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিটের নির্ধারিত মূল্য ৭ টাকা হলেও রোগীদের কাছ থেকে ১০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ৭ টাকার টিকিটের বিপরীতে ১০ টাকা নেওয়া হলেও অতিরিক্ত ৩ টাকা ফেরত দেওয়া হয় না।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রমেলা নামের এক রোগী বলেন, টিকিটের মূল্য ৭ টাকা হলেও ৩ টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। ৭ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা নেওয়া হলে বিষয়টি সরকারি ফান্ডে কীভাবে জমা হচ্ছে, তা পরিষ্কার থাকা দরকার। অন্যথায় নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী টাকা নেওয়া উচিত।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, খুচরা টাকার সমস্যার কারণে রোগীদের খুচরা টাকা সঙ্গে আনতে বলা হচ্ছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে প্রত্যেক রোগীর টাকা খুচরা করে দেওয়া সম্ভব নয়।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে পানি সরবরাহ, টয়লেট ও ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়েও রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষের কথা জানা গেছে। তাদের দাবি, হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থায় আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
তবে হাসপাতালের সার্বিক সেবা প্রসঙ্গে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার বলেন, জনবল সংকটের কারণে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে। গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় বর্তমানে ওটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি এক্স-রে টেকনিশিয়ান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট রয়েছে।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাগজে-কলমে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকলেও হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আরও তিনজনকে রাখা হয়েছে এবং তাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে।
জেনারেটরের জ্বালানি প্রসঙ্গে ডা. শারমিন আক্তার বলেন, হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও উপজেলা শহরের জন্য সরকারিভাবে জ্বালানি তেলের কোনো ব্যবস্থা নেই। এ কারণে নিজস্ব অর্থায়নে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি চালু হলে বিদ্যুৎ সমস্যার সময় কিছুটা সুবিধা পাওয়া যাবে।
টিকিটের টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, রোগীদের খুচরা টাকা নিয়ে আসতে বলা হচ্ছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সবার টাকা খুচরা করে দেওয়া সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে ডা. শারমিন আক্তার বলেন, তিনি কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কাউকে তথ্য দিতে বাধ্য নন। তথ্য চেয়ে আবেদন করার কথা বলা হলে তিনি জানান, মন্ত্রণালয় বা সিভিল সার্জন তথ্য দিতে বললে তিনি তা দেবেন। অন্যথায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার পরামর্শ দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের দাবি, দ্রুত গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক, এক্স-রে টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট দূর করা, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জেনারেটর চালানোর জন্য জ্বালানি বরাদ্দ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর চালু হওয়া অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম নিয়মিত করা গেলে আলমডাঙ্গা ও আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।