স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রম’ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরীতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় অংশীজনদের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকারি বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় সমন্বয় সভা। গ্রাম আদালতের জেলা ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান প্রেজেটেশন উপস্থাপন করেন।
সভায় জানানো হয়, ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ফৌজদারী ও দেওয়ানী বিরোধ দ্রুত সহজভাবে নিষ্পত্তির জন্য একটি স্থানীয় আদালত। আইনে নির্ধারিত সীমিত ধরণের মামলা গ্রাম আদালতে করা যায়। সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত, সহজ ও কম খরচে বিচার সেবা নিশ্চিত করা। গ্রাম আদালতে ফৌজদারী মামলা আঘাত, হুমকী ও ক্ষতি ইত্যাদি এবং দেওয়ানী মামলা টাকা আদায় (চুক্তি/রসিদ), অস্থাবর সম্পত্তি ফেরত বা মূল্য আদায়, জমি বেদখল (১ বছরের মধ্যে), গবাদি পশুর অনধিকার প্রবেশ, কৃষি শ্রমিকের বকেয়া মজুরি, স্ত্রীর বকেয়া ভরণপোষণ ও নির্দিষ্ট বিষয়ে ক্ষতিপূরণের মামলা করা যাবে। গ্রাম আদালত কারাদন্ড দিতে পারে না। এখানে মামলা পরিচালনায় আইনজীবী লাগে না।
এ প্রকল্প ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হয় এবং আগামী ২০২৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত এ প্রকল্প চলবে। এরপর সরকার প্রশানকে দিয়ে এ প্রকল্পকে এগিয়ে নেবে। বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্প. স্থানীয় সরকারি বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৪০ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টি ইউনিয়নে এ প্রকল্প কাজ হয়েছে এবং ৯টি ইউনিয়নে সার্পোট দিয়ে চলেছে। ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসাব সহকারিদের ট্রেনিং করানো হয়েছে। এ আদালত কিভাবে পরিচালনা হচ্ছে সেগুলো দেখার জন্য আপনাদেরকে অনুরোধ করছি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারি বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তার বলেন, ‘গ্রাম আদালতে কোন আইনজীবী লাগে না। মামলার বাদী ও প্রতিবাদী সরাসরি মামলা পরিচালনায় অংশ গ্রহন করেন। মামলা নির্ধারিত সময়ে মধ্যে শেষ হয়। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, তথ্য অফিস ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তারা যেসকল উঠান বৈঠকে অংশগ্রহন করেন সেখানে গ্রাম আদালত সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা করবেন। এ আইনটি জানতে পারলে ইউনিয়নবাসী উপকৃত হবে। আমরা চায় ছোটঘাট যেকোন ধরণের ঘটনা ঘটলে সরাসরি থানা বা আদালতে না গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে যাবেন। এতে দ্রুত সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হবে।’
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, ব্র্যাকের প্রতিনিধি মানিক ম্যাক্সিমিলান রুগা, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক জহির রায়হান, ইসলামী ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও বাংলাদেশ বেতারের প্রতিনিধি হুসাইন মালিকসহ সরকারি এবং এনজিও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গায় ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রম’ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরীতে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত



