চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় জেলা পর্যায়ে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভায়পতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
সভার শুরুতে চুয়াডাঙ্গা ডেঙ্গু বিস্তার ঠেকানোর জন্য চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার বিভিন্ন কর্মসূচি আলোকপাত করেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার। সভায় জেলার ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন করণীয়  এর বিস্তার থেকে বাঁচতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলার সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং কলেজে শিক্ষার্থীদের নিয়ে জনসচেতনা বাড়াতে হবে। একই সাথে বিভিন্ন হাঁট বাজারে ডেঙ্গু বিস্তার ঠেকানোর জন্য পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। জেলায় শহরের প্রতি রবিবারে সাপ্তাহিক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যেন কোথাও কোনো বৃষ্টির পানি জমে না থাকে, সেই সঙ্গে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার পরিচ্ছন্নে সবাইকে কাজ করতে হবে। চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিস্কার পরিচ্ছন্নের জন্য নিয়মিত শিডিউল তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। জেলার রেস্তোরা ও বিভিন্ন খাবারের হোটেল সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যেন নষ্ট খাবার ও পানি না জমে থাকে। প্রতি বৃহস্পতিবার জেলার বে-সরকারি ক্লিনিক ও সদর হাসপাতালে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখলে ডেঙ্গু বিস্তার থেকে রেহায় পাওয়া যাবে। একই ভাবে জেলার বিভিন্ন নির্মাধীন ভবন, পরিত্যক্ত স্থানগুলোর ঝড়-জঙ্গল থাকলে, ভালোভাবে পরিস্কার করলে মশার লার্ভার বিস্তার কমে আসবে বলে জানানো হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানাছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে। নিয়মিত মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগ, পৌরসভা, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কারও বাড়ির আশপাশে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে এবং জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করার নির্দেশ দেন।
তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু অভিযান চলাকালীন নয়, নিয়মিতভাবে বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে কোথাও যাতে দীর্ঘসময় পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাছি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি. এম. তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদি হাসান, দামুড়হুদা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মশিউর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লায়লা তাসলিমা নাসরিন, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সেপেক্টর নার্গিস সুলতানা, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফুন্নাহার, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি প্রমুখ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।