স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনকে হত্যার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থী ও আমজনতার ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। নিহত আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড়শলুয়া গ্রামের মো. কুতুব আলীর ছেলে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর তাকে খুলনায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি মো. আহসান হাবিবের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত আজিমুলের বাবা কুতুব আলী। এসময় তিনি বলেন, আমার ছেলেকে ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে তারা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমার ছেলে কোন ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেনি তাকে হত্যা করা হয়েছে। মেস ম্যানেজার মেহেদী ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা তাকে হত্যা করেছে।
এসময় তিনি আরো বলেন, একদিন রাতে আজমুলের কাছে তার ভার্সিটি থেকে ফোন দেয় ম্যাচের বড় ভাই মেহেদী নামের একটি ছেলে। সে ফোন দিয়ে আজমুলের কাছে ৫৮ হাজার টাকা চায়। তখন আজমুল বলে ভাইয়া আমার কাছে তো এখন এত টাকা নাই। তখন আজমুল ২৩ হাজার টাকা বিকাশ করে মেহেদির কাছে পাঠায়। ঘটনার আগের রাতে আজমুল আমার কাছে ফোন দেয় যে বাবা আমি খাবার খেয়েছি এই কারণে এইখানে একটু সমস্যা হচ্ছে। তখন আজমুল বলে বাবা আপনি একটু তাদের সাথে কথা বলেন। তখন মেহেদি নামক একটা ছেলে আমার সাথে কথা বলেন। তখন তারা বলে আঙ্কেল একটু ঝামেলা হয়েছে আপনি এক লাখ টাকা বা তার একটু বেশি টাকা নিয়ে ভার্সিটিতে আসেন। তখন আমি বলি আমার ছেলের যেন কোন কিছু না হয় যত টাকা লাগে আমি দেব।
পরে আমি বললাম এখন রাত বারোটা বাজে আগামীকাল সকালে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিবো। তখন মেহেদি বলেন আপনি কখন আসবেন তা জানিনা ট্রেনে আসবেন কি প্লেনে আসবেন কি বাসে আসবেন সেটা আমার দেখার দরকার নাই। মেহেদি বলে কয়টা বাজে সেটা আমরা দেখব না যত তাড়াতাড়ি পারেন আসেন। তখন আমি বলি, তাহলে আমি এই রাতেই চলে আসছি আমার ছেলের যেন কোন ক্ষতি না হয়। পরে আমি রাতারাতি ট্রেনে করে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দেই।
পরদিন সকালে আমি ভার্সিটিতে গেলে এক লোকের সাথে দেখা হয় সে বলেন আপনি কি আজমুলের বাবা। তখন আমি বলি হ্যাঁ আমি আজমুলের বাবা তখন ওই ছেলেটি বলেন বেঁচে নেই আপনার ছেলে। ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তখন আমরা সবাই তাকে মেডিকেল হসপিটাল এ নিয়ে যায় সেখান থেকে বলে আজমুল মৃত।
আজমুলের বাবা আরও অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে যদি ছাদ থেকে লাফ দেয় তাহলে তো তাকে মেডিকেলে নিয়ে গিয়েছে সেখানে কি কোন সিসিটিভি ছিলনা। কই কোন সিসিটিভিতে তো দেখা যাচ্ছে না আমার ছেলে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে মারা গেছে। আমার ছেলেকে ওরা মেরে ফেলেছে, আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে নিহত আজমুলের বাবা আরো বলেন, আমি জানি এই বাংলাদেশে আমার ছেলের মৃত্যুর কোন বিচার হবে না। কারণ আজ চার দিন হয়ে গেল কোন আসামি ধরা হয়নি। আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এর বিচার চাই।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত আজমুলের মা আসমা খাতুন, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মোমিন মালিতা, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জুয়েল মাহমুদ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল হাসান প্রমুখ।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর থানা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, দর্শনা থানা কৃষকদলের সদস্য সচিব আবু তিলুয়ার রহমান মুন্না, নিহতের স্বজনরা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতশত শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
কর্মসূচি থেকে আজমুল হোসেন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
খুলনায় শিক্ষার্থী আজমুল হত্যার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সামনে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল



