ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শাখাওয়াত হোসেন

ঝিনাইদহ অফিস
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশের চিকিৎসা খাত চরম অবহেলা ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের স্টোর ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আল মামুন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান মিলনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড, খাবার পরিবেশনের স্থান ও হাসপাতালের প্রাকৃতিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। জবাবে মন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, চিকিৎসক সংকট নিরসনে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতকে আরও গতিশীল করতে দেশে নতুন করে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঝিনাইদহের মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মরত যেসব কর্মী এখনো বেতন পাননি, তাদের বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোর অন্যান্য সমস্যাও দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভারত সীমান্তবর্তী মহেশপুরের ভৈরবা হাসপাতাল বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে হেলথ সেন্টার চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সারাদেশে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার শয্যার ১০ থেকে ১২টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি হাসপাতাল শুধুমাত্র নারীদের জন্য নির্ধারিত থাকবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।