রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম প্রণেতা এন. এন. সাহার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় পরিবারের সদস্যদের সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম বা সিলমোহরের আদি নকশাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নিত্যানন্দ সাহা (এন. এন. সাহা)-র রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা শহরের সত্য নারায়ণ মন্দিরের হলরুমে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম প্রণেতা এন এন সাহার সেজো ছেলে চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু  শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মাথাভাঙ্গার স্টাফ রিপোর্টার ইসলাম রকিব সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এছাড়াও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এন. এন. সাহার পরিবারের সদস্যবৃন্দ।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রবাসী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার)-এর অফিসিয়াল সিলমোহর বা মনোগ্রামটি তৈরি করেছিলেন চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান এন. এন. সাহা। পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই মনোগ্রামটিই সামান্য পরিমার্জন করে রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম হিসেবে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, স্বাধীনতার দীর্ঘ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় প্রতীকের মূল প্রণেতা হিসেবে এন. এন. সাহাকে আজ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।  
সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তেব্যে জানানো হয়, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের ডিজাইনার হিসেবে তাঁর এই অনন্য অবদানকে পাঠ্যপুস্তকসহ রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বর্তমান সরকারের নিকট জোর দাবি জানিয়ে বলা হয়, অনতিবিলম্বে এন. এন. সাহাকে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় পদক প্রদান করে তাঁর কাজের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হোক এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর এই ঐতিহাসিক অবদানকে তুলে ধরার ব্যবস্থা করা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত এন এন সাহার বড় চেলে সন্তোষ সাহা, সেজো ছেলে সাংবাদিক  চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু, ছোট ছেলে রতন লাল সহা। নাতি ছেলে স্বপন সাহা, সুমন সাহা, মিলন সাহা এবং পুতি ছেলে আবির, আদ্র সাহা অংকন, সায়ন্ত সাহা প্রমূখ।  

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।