জলাবদ্ধতা নিরসনে আলমডাঙ্গায় ফজলুল হক খাল পুনঃখননের উদ্যোগ খাল পরিদর্শনের পর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ

আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গা পৌর শহরের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম পুরোনো মাধ্যম একেএম ফজলুল হক খাল পুনরুদ্ধার ও পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে আলমডাঙ্গা পৌর প্রশাসন। দীর্ঘদিনের দখল, ভরাট ও অবহেলায় নাব্যতা হারানো প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো এই খাল পুনরুদ্ধার করা হলে পৌর শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে খালের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শাহীনুর আক্তার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে আলমডাঙ্গা পৌর শহরের বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা কমানো এবং আশপাশের কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ একেএম ফজলুল হক খাল খনন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার না হওয়ায় খালের বিভিন্ন অংশ মাটি, আবর্জনা ও আগাছায় ভরাট হয়ে নাব্যতা হারিয়েছে। কোথাও কোথাও খালের জমি দখল করে মাছের ঘের, আবাদি জমি এবং স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। খালের স্থির পানিতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মশার উপদ্রবও বেড়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিদর্শন শেষে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য ফজলুল হক খাল পুনরুদ্ধার অত্যন্ত জরুরি। আলমডাঙ্গা পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের জন্য পূর্ব পরিকল্পিতভাবে খনন করা এই খাল বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখলের শিকার হয়েছে। অনেক জায়গায় বাড়িঘর নির্মাণ করায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান সরকারের খাল পুনঃখনন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এই খাল পুনঃখনন করা হবে। একই সঙ্গে পৌরসভার সব ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে এই খালের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে পৌরবাসী স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পান।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শাহীনুর আক্তার জানান, প্রয়োজনীয় জরিপ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পুনঃখননের কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মৌদুদ আলম খাঁ, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান রানা, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার্দ্দার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবীব সেলিমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।খাল পরিদর্শন শেষে আলমডাঙ্গার আর্টকপাট এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আয়োজিত দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।
৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে এলজিইডির কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, খাল পুনরুদ্ধার এবং বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আলমডাঙ্গা পৌর শহরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।