মেহেরপুর অফিস
মেহেরপুরের গাংনীর মুন্দা গ্রামে মাটির নীচে পুতে রাখা স্বর্ণ চুরির অভিযোগে আলাল শেখ (২২) নামে এক টাইল্স মিস্ত্রিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গাংনী থানা পুলিশের একটি টীম গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাকে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার বানিয়াপাড়া বারাদি গ্রামে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। সেই সাথে চুরি যাওয়া অলংকার অপর আসামী মোমিন খানের শ্বশুর বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ থানার কলেজপাড়া হতে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আলাল শেখ কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার বানিয়াপাড়া বারাদি গ্রামের আরজান শেখের ছেলে। তাকে মেহেরপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, মুন্দা গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে শাহীন কুয়েত প্রবাসী। বাড়িতে থাকেন তার বৃদ্ধা মা নার্গিস বানু ও তার দুই বোন। নিরাপত্তার স্বার্থে নার্গিস বানু তার এবং দুই মেয়ের ব্যবহৃত সোনার গয়না, নেকলেস, চুড়ি, কানের দুল, চেইন, আংটিসহ মোট ১১ ভরি ১৪ আনা ওজনের অলংকার একটি প্লাস্টিকের কৌটায় ভরে পলিথিনে মুড়িয়ে ঘরের সিঁড়ির পূর্ব পাশের মাটির নিচে লুকিয়ে রাখেন।
সম্প্রতি বাড়িতে ৫ জন টাইল্স মিস্ত্রি কাজ শুরু করেন। ৫ জুলাই বিকেলে মিস্ত্রিরা চলে যাওয়ার পর নার্গি বানু দেখেন মাটির নিচে রাখা গয়না নেই। বিষয়টি ছেলেকে জানালে তিনি বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানতে পারেন, কাজ করার সময় এক মিস্ত্রি মাটি খুঁড়ে গয়না পেয়ে আরেকজনকে দেন, এরপর দুজন মিলে তা নিয়ে সটকে পড়েন। ফুটেজ দেখে স্থানীয়রা কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাসিন্দা মোমিন খান (৩৬) ও মোঃ আলালকে (২২) শনাক্ত করেন। এ ব্যাপারে নার্গিস বানু গাংনী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গাংনী থানার মামলা নং ১১, তারিখ-০৬/০৭/২০২৬ খ্রি. ধারা- ৩৭৯ পেনাল কোড। গাংনী থানা ও বামন্দী পুলিশ ক্যাম্প যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসামী আলাল শেখকে গ্রেফতার করে এবং তার তথ্যের ভিত্তিতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পলাতক মোমিন খানের শ্বশুরবাড়ি থেকে চুরি যাওয়া গয়না উদ্ধার করে।
গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই সাথে চোরাই স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। অন্য আসামী মোমিন খানকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গাংনীতে মাটির নিচ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার, গ্রেফতার-১



