চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দূর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৭৯ লাখ টাকার চেক বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা জেলায় বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও গুরুতর আহত ব্যক্তি, তাদের পরিবার এবং উত্তরাধিকারীদের মাঝে মোট ৭৯ লাখ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও সহায়তায় লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ডের আর্থিক সহায়তা তহবিল থেকে এ অনুদান প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চেক হস্তান্তর করা হয়। এতে ১৯টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সুশৃঙ্খলভাবে এই বিশাল অঙ্কের অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক-উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সহায়তার চেক হস্তান্তর করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিনহাজুল ইসলাম, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. শামীমা ইয়াসমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র ও বিআরটিএ চুয়াডাঙ্গা সার্কেলের সরকারি পরিচালক (ইঞ্জি.) লিটন বিশ্বাস।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর প্রশাসন (শহর ও যানবাহন) আমিরুল ইসলাম, নিরাপদ সড়ক চাই- নিসচার সভাপতি মানিক আকবর, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, জেলা বাস মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম মইনুদ্দিন, জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল ইসলাম, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় সুধীজন এবং আর্থিক সহায়তাপ্রাপ্ত পরিবারের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় গঠিত ট্রাস্ট ফান্ড থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য ৩ লাখ টাকা ও সাধারণ আহতদের চিকিৎসার জন্য ১ লাখ টাকা করে চেক প্রদান করা হয়েছে। সরকারি আদেশ অনুযায়ী ১৯টি পরিবারকে ৭৯ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হলো। এসময় বক্তারা বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনার ফলে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়, তা কখনো টাকা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে সরকারের এই মানবিক উদ্যোগ ও সময়োপযোগী প্রয়াস বিপদে পড়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে কিছুটা হলেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
এ সময় বক্তারা ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে চালক, যাত্রী ও পথচারীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার এবং আরও বেশি সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।