স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় জেলা উন্নয়ন সমš^য় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে| গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়| সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার| শুরুতে গত সভার কার্যবিবরণী পাঠ করেন সহকারী কমিশনার ফাহাদ চৌধুরী|
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশীর সঞ্চলনায় সভায় জানানো হয়, সদর হাসপাতালের পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে| সেই সাথে সদর হাসপাতালের আইসিইউ রক্ষণাবেক্ষণ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা পরিচালনা করার জন্য অনুমতি দেয়া হয়| চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিধন কার্যক্রম এবং ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতা বার্তা মাইকিং করা হবে| রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেয়া হয়| বিআরটিএ এরিয়া চত্বরে দালালমুক্ত করার নির্দেশনা দেয়া হয়| জেলায় খাল খনন ও বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে| সার বণ্টন ও নির্ধারিত চাহিদার থেকে বেশি সার সরবরাহ করা যাবে না|
সমš^য় সভায় বক্তারা বলেন, পৌরসভার মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার ব্যাপক অবনতি ঘটেছে| এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে ডেঙ্গু মশার উপদ্রব বেড়েছে| চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা থেকে রেলগেট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বাস এবং ট্রাক পার্কিং করা থাকে যার কারণে মানুষের রাস্তায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটে| চুয়াডাঙ্গা রেল গেটের নিচে যে আন্ডারপাসটি আছে সেটি এই বর্ষার মৌসুমে পানি দ্বারা পূর্ণ থাকে| পানি অপসারণের ব্যবস্থা করলে মানুষের চলাচলে অনেকটাই সুবিধা হবে|
এ সময় পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার বলেন, চুয়াডাঙ্গার পৌরসভার যে জায়গাগুলো আছে তার মধ্যে মাত্র ৩ একর জায়গায় পৌরসভার বর্জ্য রাখা হয়| এতে মোট ১১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩৮০ ঘনফুট বর্জ্য রাখা যায়| আমরা কুষ্টিয়ার সঙ্গে যোগাযোগে করছি যারা এ সকল বর্জ্যগুলো নিয়ে রিসাইকেল করে আবার ব্যবহারের উপযোগী করতে পারে| এতে করে চুয়াডাঙ্গার বর্জ্যগুলো দ্রুত অপসারণ করা সম্ভব হবে| সেই সাথে চুয়াডাঙ্গার পৌরসভার ড্রেনগুলো পরিষ্কার রাখা হচ্ছে যাতে করে ডেঙ্গুর উপদ্রব কম হয়| সেইসাথে আন্ডারপাসে জমে থাকা পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান|
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এই মৌসুমে জেলায় ৪৩ হাজার ৭৩২ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ করা হচ্ছে| বর্তমানে মোট ২৮ শতাংশ জমিতে ধান লাগানোর কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে| আগামী মৌসুমের সবজি চাষের জন্য ১২ হাজার কৃষককে সবজির বীজ ও সার দেওয়া হবে| বর্তমানে জেলায় যে সার সংকট রয়েছে সেটি অতি দ্রুতই কেটে যাবে বলে আশা করছি| জেলায় বর্তমানে ইউরিয়া সারের মজুদ রয়েছে ৩ হাজার ২৬২ মেট্রিক টন এবং গত বছরের তুলনায় ২ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন টিএসপি সার বেশি বরাদ্দ পেয়েছি| তাছাড়া অন্যান্য সার ৮৫৫ মেট্রিক টন এর মধ্যে ৩১৬ মেট্রিক টন সার জেলাতে এসে পৌঁছেছে| জেলায় বর্তমানে সারের সংকট নেই তবে কিছু অসাধুচক্র সারের অবৈধ মজুদ করে সংকট করার অপচেষ্টা করতে পারে|
এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ইতোপূর্বে আমরা দেখেছি জ্বালানি তেল নিয়ে একটি অসাধুচক্র কৃত্রিম সংকট ˆতরি করেছে বর্তমানে সেটিরই পায়তারা চলছে| অনেক অসাধুরাই সারের কৃত্রিম সংকট ˆতরি করে মার্কেটে একটি ক্রাইসিস ˆতরি করতে চাচ্ছে| কিন্তু আমি বলব কৃষকের যতটুকু জমি আছে তাকে ততটুকু পরিমাণে সার দিতে হবে| কোন অসাধুচক্র কৃত্রিম সংকট ˆতরি করতে চাইলে তা বরদাস্ত করা হবে না| যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা আমরা কঠিন হস্তে দমন করব|
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা জানান, জেলাতে মোট লক্ষমাত্রার ২৬ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে| সেই সাথে ৫৯ শতাংশ চালও সংগ্রহ করা হয়েছে| খাদ্য সংকট কমাতে জেলা খাদ্য অফিস আগেভাগেই এসকল খাদ্যদ্রব্য মজুদ করছে|
এসময় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, জেলার সার্বিক উন্নয়নের সকলকে সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে| চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ড্রেনেজ লাইনগুলো ঠিক করতে হবে এবং মশক নিধন কর্মসূচি পালন করতে হবে| বর্ষার মৌসুমে কোন আন্ডার কনস্ট্রাকশন বিল্ডিং এর পানি, ফুলের টব এবং ডাবের খোসায় জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে| তিনি আরোও বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রচুর পরিমাণে ময়লা আবর্জনা দেখতে পাওয়া যায়| খুবই দ্রুত সেটি অপসারণ এর ব্যবস্থা করতে হবে| কয়েকদিন আগে যে আইসিইউ সেটআপ করা হলো কিন্তু সেটির রক্ষনাবেক্ষণের কোন লোক নেই| এ সকল দামি সরঞ্জামাদি রক্ষণাবেক্ষণে খুব দ্রুতই ¯^াস্থ্য বিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে| জেলার প্রাথমিক শিক্ষার লেখাপড়ার মান খুবই খারাপ| অনেক প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো লিখতে পড়তে জানে না| খুব দ্রুতই সকল প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষকগণকে নিয়ে বসতে চাই| প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার মান বাড়াতে হবে|
মৎস্য খাত নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বিভিন্ন নদী-নালা এবং বিলে জাল দিয়ে মাছ মাছ ধরার কারণে অনেক ছোট পোনা ধরা পড়ছে| ইতোপূর্বে কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হলো বর্তমানে এই জাল দিয়ে মাছ ধরা অব্যাহত রয়েছে| বিভিন্ন বিল এলাকায় এই ছোট পোনা মাছ ধরার বিষয়ে সতর্ক করতে হবে এবং মাইকিং করতে হবে| এই ছোট মাছ ধরা বন্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগন নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন এবং সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা ও দুই বছরের জেল উভয় দণ্ড একসাথে দিতে হবে|
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার ˆমত্র, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল, উপজেলা ¯^াস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আওলিয়ার রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক ¯^পন, সাধারণ সম্পাদক শাহআলম সনি, ˆদনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বিপুল আশরাফসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ|



