আলমডাঙ্গায় উচ্চ ফলনশীল বারি পেঁয়াজ-৪ এর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের পারদুর্গাপুর এলাকায় বারি পেঁয়াজ (বীজ)-৪ এর “পেঁয়াজের মানসম্মত বীজ উৎপাদনের আধুনিক কলাকৌশল” শীর্ষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে আয়োজিত এ মাঠ দিবসে স্থানীয় শতাধিক কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। পরিবর্তিত জলবায়ুতে পেঁয়াজ বীজের সংকট নিরসনে বীজ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ” শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), কুষ্টিয়ার সরেজমিন গবেষণা বিভাগের বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মসলা ফসল জোরদারকরণ প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার। তিনি বলেন, পেঁয়াজ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মসলা ফসল। দেশের চাহিদা পূরণ এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে মানসম্মত পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পেঁয়াজ চাষ করলে কৃষক অধিক লাভবান হতে পারবেন। পেঁয়াজ বর্তমানে একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নূরে ইউছুফ বলেন, কৃষির আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন উচ্চফলনশীল ও রোগ-সহনশীল জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে। বারি পেঁয়াজ (বীজ)-৪ একটি সম্ভাবনাময় জাত। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করলে এ জাত থেকে বিঘাপ্রতি প্রায় ১০০ কেজি পর্যন্ত বীজ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কোন্দ পেয়াজ উৎপাদন সম্ভব। এ জাত কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশে পেঁয়াজ বীজের ঘাটতি পূরণে কৃষকদের এগিয়ে আসতে হবে। মানসম্মত বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশের কৃষি অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে গাজীপুর আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্র ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল কৃষকদের উদ্দেশ্যে পেঁয়াজ চাষ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে পারলে পেঁয়াজ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা অধিক মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। মাঠ দিবসে সভাপতিত্ব করেন সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, কুষ্টিয়ার ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. জাহান আল মাহমুদ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, পেঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ মসলা ফসল। আমরা যদি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এর চাষাবাদ বৃদ্ধি করতে পারি, তাহলে কৃষক ও দেশ—উভয়ই লাভবান হবে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা সবসময় প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য পারদুর্গাপুর এলাকার এক কৃষক দুই বিঘা জমিতে বারি পেঁয়াজ (বীজ)-৪ এর আবাদ করেছেন। তার মাঠে বিঘাপ্রতি প্রায় ৮০ কেজি বীজ এবং প্রায় ৯০ মণ পেঁয়াজের কোন্দ উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা গেছে, যা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, কুষ্টিয়ার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মামুন হোসাইন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বৈজ্ঞানিক সহকারী মো. রাসেল কবির তরফদার। এ সময় কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং শতাধিক কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।
মাঠ দিবস শেষে কৃষকদের বারি পেঁয়াজ (বীজ)-৪ এর চাষাবাদ, বীজ উৎপাদন, রোগবালাই দমন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে হাতে-কলমে পরামর্শ প্রদান করা হয়। কৃষকরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও উপকারী বলে অভিহিত করেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।