স্টাফ রিপোর্টার
বর্তমান সরকার সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে আগামী ৩০ সাল পর্যন্ত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ হাজার মেগওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যা এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭৮১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। যা মোট উৎপাদনের ২ দশমিক ৩ থেকে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
চুয়াডাঙ্গায় সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক একটি আধুনিক ‘গ্রিন এনার্জি পার্ক’ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং চুয়াডাঙ্গার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে মহান জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধি অনুসারে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের মাধ্যমে তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সংসদে উত্থাপিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, চুয়াডাঙ্গা দেশের অন্যতম অধিক তাপমাত্রা ও সূর্যালোকপ্রাপ্ত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বছরের অধিকাংশ সময় এ জেলায় পর্যাপ্ত সৌর বিকিরণ পাওয়া যায়, যা বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। কিন্তু এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এ অঞ্চলে এখনো কোনো বৃহৎ ও সমন্বিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সময়ের দাবি। সরকারের ঘোষিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও নতুন নতুন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, চুয়াডাঙ্গায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস), নবায়নযোগ্য জ্বালানি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের সুযোগ সমন্বিত একটি আধুনিক ‘গ্রিন এনার্জি পার্ক’ স্থাপন করা হলে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, এমন একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হবে এবং যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়নের পথ উন্মুক্ত হবে। একই সঙ্গে চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, চুয়াডাঙ্গার অনুকূল ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এ সম্ভাবনাকে এখনো যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। ফলে জাতীয় জ্বালানি খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়টি জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী সরকারি উদ্যোগের দাবি রাখে। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, চুয়াডাঙ্গায় সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক ‘গ্রিন এনার্জি পার্ক’ স্থাপনের লক্ষ্যে দ্রুত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম রৌদ্রপ্রবণ জেলা হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তবসম্মত সুযোগ রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে ‘গ্রিন এনার্জি পার্ক’ গড়ে তোলা গেলে তা জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে অবদান রাখার পাশাপাশি এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিরও নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে।
সংসদে উত্থাপিত এ প্রস্তাব এখন চুয়াডাঙ্গাবাসীর দীর্ঘদিনের একটি সম্ভাবনাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দেশের অগ্রযাত্রায় চুয়াডাঙ্গা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।



