আলমডাঙ্গা রামদিয়া পুরাতন বটতলায় রাস্তা নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক

আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের রামদিয়া পুরাতন বটতলা থেকে নওলামারি সড়ক পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত ওয়াই (ণ) আকৃতির রাস্তার একপাশ দিয়ে নির্মাণকাজ পরিচালনা করায় এলাকাবাসী নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরে সাবেক আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রামদিয়া পুরাতন বটতলা এলাকায় একটি পুরাতন বটগাছকে কেন্দ্র করে দুই পাশ দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে বটগাছ ও একটি গভীর পুকুরের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ অংশ দিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, বহু বছর ধরে মানুষ বটগাছের দুই পাশ দিয়েই চলাচল করে আসছেন। ফলে একপাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বটগাছ থেকে অল্প দূরত্বেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি ব্রিজ রয়েছে। বটগাছ ও গভীর পুকুরের মাঝ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে পুকুরপাড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। এতে রাস্তার স্থায়িত্ব যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হবে, তেমনি পথচারী ও যানবাহনের নিরাপদ চলাচলও ব্যাহত হতে পারে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বটগাছের অপর পাশে একটি সাবেক শিক্ষকের বাড়ির গেট সংলগ্ন এলাকায় সরকারি রাস্তার পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। ফলে বটগাছের দুই পাশ দিয়েই রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব। এতে রাস্তার ঐতিহ্যগত কাঠামো বজায় থাকবে এবং জনসাধারণের চলাচল আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, সরকারি ম্যাপ অনুযায়ী রামদিয়া পুরাতন বটতলা এলাকায় প্রায় ৬০ ফুট জায়গা থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে বর্তমানে সেই পরিমাণ জায়গা দৃশ্যমান নয়। তিনি বলেন, রামদিয়া বাজার সংলগ্ন ত্রিমোহনী এলাকায় ৪০ ফুট জায়গার মধ্যেও ওয়াই আকৃতির সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে সম্ভব হলে পুরাতন বটতলাতেও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো বাধা থাকার কথা নয়।
এ বিষয়ে খাসকররা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কফিল উদ্দিন বলেন, রামদিয়া পুরাতন বটতলার রাস্তার দুই পাশেই আমাদের নিজস্ব জমি রয়েছে। ঠিকাদার টেন্ডারের নকশা অনুযায়ী কাজ করছেন। তবে বটগাছের এপাশে তিন থেকে চার ফুট জায়গা নিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ জানান, রাস্তাটি একাধিকবার পরিদর্শন করা হয়েছে। রাস্তার মাঝখানে একটি পুরাতন বটগাছ রয়েছে। গাছটির একপাশে জায়গা বেশি থাকায় পুকুরপাড় ঘেঁষে রাস্তার নকশা করা হয়েছে। পুকুরের অংশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য প্যালাসাইড নির্মাণ করা হবে। তবে এলাকাবাসী যদি বটগাছের অপর পাশে প্রয়োজনীয় জায়গা দিতে পারেন, তাহলে সেখান দিয়েও রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি জননিরাপত্তা, দীর্ঘমেয়াদি সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগণের সুবিধার বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
স্থানীয়দের মতে, পুরাতন বটতলার ঐতিহ্যবাহী ওয়াই আকৃতির রাস্তা বহাল রেখে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হলে চলাচল আরও নিরাপদ হবে এবং বর্ষা মৌসুমে দুর্ঘটনা ও সড়ক ক্ষতির ঝুঁকিও কমে আসবে। তাই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাইয়ের মাধ্যমে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।