স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় আশঙ্কাজনক হারে আত্মহত্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ‘আত্মহত্যা প্রবণতা হ্রাসে করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত “অহ ওহাবংঃরমধঃরড়হ ড়ভ ঝড়পরড়-ঊপড়হড়সরপ ধহফ চংুপযড়ষড়মরপধষ ঋধপঃড়ৎং ড়ভ ঝঁরপরফব রহ ইধহমষধফবংয: ঞড়ধিৎফ ঊারফবহপব-ইধংবফ চড়ষরপু উবাবষড়ঢ়সবহঃ” গবেষণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রবন্ধ ও তথ্যচিত্র তুলে ধরেন। এ সময় রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. রনি মৃধা। কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্যচিত্র (প্রেজেন্টেশন) থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলায় আত্মহত্যার একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। বিগত ৬ মাসে (ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত) চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ১০০ জন ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে।
প্রেজেন্টেশনের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ১১ জন, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ১৪ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৭ জন মার্চ মাসে ১৫ জন, এপ্রিল মাসে ২২ জন ও মে মাসে ২১ জনসহ জেলায় মোট ১০০ জন আত্মহত্যা করেছেন। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বছরের শুরুর তুলনায় এপ্রিল ও মে মাসে আত্মহত্যার হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে চিন্তিত করে তুলেছে।
গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে কর্মশালায় আত্মহত্যার পেছনে থাকা প্রধান প্রধান সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো বিশদভাবে আলোচনা করা হয়। আত্মহত্যা প্রবণতায় প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত করা হয় পারিবারিক কলহ, মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও একাকীত্ব, আর্থিক সংকট ও ঋণের বোঝা, মাদকাসক্তি, পরীক্ষায় ব্যর্থতা ও প্রেমঘটিত জটিলতা, দীর্ঘ ও জটিল রোগ, বাল্যবিবাহ ও পিতা-মাতার ভরণপোষণে অনীহা।
কর্মশালায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, আত্মহত্যা কেবল একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। এই প্রবণতা রোধে কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পারিবারিক পর্যায়ে সন্তানদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং যেকোনো মানসিক সংকটে পাশে দাঁড়ানো একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে। সেই সাথে মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়ন ও নিরাময় কেন্দ্রের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে নিয়মিত সচেতনতামূলক আলোচনা করা ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া এবং বিষণ্ণতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনার মাধ্যমে আত্মহত্যা রোধ করা সম্ভব।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম তারিক উজ জামান, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মুস্তাফিজুর রহমান, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদ, সহকারি কমিশনার আবদুল্লাহ আল নাঈম, সহকারী কমিশনার মির্জা শহিদুল, সহকারী কমিশনার শাকিল মোঃ ছফিউল্লাহ সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
আত্মহত্যার প্রবণতা হ্রাসে করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত চুয়াডাঙ্গায় ৬ মাসে ১০০ জন ব্যক্তির আত্মহত্যা



