গত তিনদিন মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের পর বিকালে চুয়াডাঙ্গায় বজ্র বৃষ্টি, জনজীবনে স্বস্তি

স্টাফ রিপোর্টার


মাঝারি তাপপ্রবাহ আর ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করার পর অবশেষে ¯^স্তির বৃষ্টির দেখা পেল চুয়াডাঙ্গাবাসী| গত তিনদিন মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শেষে বিকেলে জেলাজুড়ে বয়ে গেছে ঝড়ো হাওয়া, আর তার পরপরই নেমেছে ¯^স্তির বৃষ্টি| ফলে তপ্ত চুয়াডাঙ্গায় নেমে এসেছে এক চিলতে শীতলতা| গতকাল সোমবার দুপুর তিনটায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস| এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৫৬ শতাংশ| কড়া রোদ আর বাতাসে আর্দ্রতার কারণে দুপুরের দিকে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে| অতি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে বের হতে দেখা যায়নি| খেটে খাওয়া দিনমজুর ও শ্রমিকরা তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন|
তবে বিকালের পর থেকেই চুয়াডাঙ্গার আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখা যায়| দিনভর তপ্ত থাকার পর সন্ধ্যা ছয়টায় চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা একই অর্থাৎ ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও বাতাসের আর্দ্রতা একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮ শতাংশে| আর্দ্রতার এই চড়া গ্রাফের পরপরই ধেয়ে আসে কালবৈশাখীর ঝড়ো হাওয়া| সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে ২৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়| এরপরই শুরু হয় কাংখিত বৃষ্টি| আবহাওয়া অফিস জানায়, সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে|
পাখি ভ্যান চালক কাউসার হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে যে পরিমাণ গরম পড়ছিল, তাতে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছিল| বিকালের এই ঝড় আর বৃষ্টি সারাদিনের গরমকে কমিয়ে দিয়েছে| এক নিমেষেই শরীর-মন জুড়িয়ে গেল| তবে কিছু কিছু জায়গায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে একটু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে| জেলাবাসী এই বৃষ্টিতে কিছুটা হলেও ¯^স্তি পেয়েছে| কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, সারাদিন ব্যাপক গরম পড়ছিল যা অসহনীয় হয়ে পড়েছিল| বিকালের বৃষ্টিতে গরম কমলেও আমাদের মাঠে ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে| অল্প কয়েক দিনের মধ্যে যে আমগুলো আমরা সংগ্রহ করতাম তার অনেক আমই ঝরে পড়েছে| তবে সামনে যারা জমিতে বিভিন্ন রকম চাষ করবে তাদের জন্য এটা উপকার|
এই বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় দীর্ঘদিনের ভ্যাপসা গরম কেটে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে ¯^স্তি ফিরলেও, আম ও লিচু চাষিরা কিছুটা চিন্তিত| ঝড়ো হাওয়ার কারণে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে আম ও লিচু ঝরে পড়ার খবর পাওয়া গেছে| তবে মাঠের অন্যান্য ফসলের জন্য এই বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে আসবে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা| আবহাওয়া অফিস জানায়, বৃষ্টির ফলে আগামী কয়েকদিন চুয়াডাঙ্গা ও এর আশেপাশের অঞ্চলের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে, যা সাধারণ মানুষকে চলমান তাপপ্রবাহ থেকে কিছুটা হলেও ¯^স্তি দেবে|

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।