জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় প্রস্তুতিমূলক সভা, কার্পাসডাঙ্গায় কবি স্মৃতি বিজড়িত আটচালা ঘরেকে কেন্দ্র করে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা

স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশীর সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। সভায় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় জানানো হয়, ২৩, ২৪ ও ২৫ মে এই তিন দিনব্যাপী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা নানান আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হবে। জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গায় কবি কাজী নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত আটচালা ঘরেকে কেন্দ্র করে জন্মবার্ষিকী পালন করা হবে। ২৩ মে সকালে কার্পাসডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি আয়োজন করা হবে এবং পরে জাতীয় কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। তারপর চলবে তিন দিনব্যাপী সংস্কৃতি অনুষ্ঠান। সারা দেশের ন্যয় চুয়াডাঙ্গাতে নজরুল মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রচনা ও আবৃত্তি অনুষ্ঠিত হবে।
২৩ মে র‍্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোচনা সভার শেষে সন্ধ্যায় কার্পাসডাঙ্গায় রিক্তের বেদন নাটকের আয়োজন করা হবে। ২৪ মে দামুড়হুদা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে। পরেরদিন ২৫ মে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী শেষে সন্ধ্যায় নীলকুঠি নাটক অনুষ্ঠিত হবে। এ সকল অনুষ্ঠানের ভেন্যু জেলা প্রশাসক কার্পাসডাঙ্গা পরিদর্শন শেষে চূড়ান্ত করবেন। এ সময় জেলা কালচারাল অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে কমিটি ও উপকমিটি গঠন করা হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও প্রেরণার উৎস। তাঁর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী চুয়াডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের জন্য কমিটি ও উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে রেজুলেশন সম্পন্ন করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করবো। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তৎপর করা হবে। প্রতিবারের তুলনায় এবার বেশ জাকজমকপূর্ণভাবে আমরা জেলাবাসিরা এ অনুষ্ঠানটি উদযাপন করব।
তিনি আরো বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা কবিতা, প্রবন্ধ, সাহিত্য বাঙালির সাংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। জেলার শিশুদেরকে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এমন প্লাটফর্ম এর মাধ্যমেই জেলার শিশুরা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সরব হয়ে উঠবে। তিন দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে এক সাম্যের বাংলাদেশ গঠনে সকলেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি।
প্রস্তুতিমূলক সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান সাহেল, সহকারী কমিশনার ফাহাদ চৌধুরী, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জেসমিন আরা, জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাঈফ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহআলম সনি, জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা নুসরাত জাহান করবীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দরা।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।