চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পুষ্টি সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, একটি সমাজ বা রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে হলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। অন্যথায় টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা পুষ্টিকর খাবার খেতে চাও না এ প্রবণতা বদলাতে হবে। নিজের বাড়িতে তৈরি খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ফাস্ট ফুড ও জাঙ্ক ফুড পরিহার করতে হবে। রঙিন চিপস খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।
আলোচনা সভায় পুষ্টির গুরুত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক দীপক কুমার পাল, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মণ্ডল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক বিপুল আশরাফ, শিক্ষক এনামুল হক এবং শিক্ষার্থী সাবরিনা আক্তার।
বক্তারা বলেন, পুষ্টিহীনতা দূর করতে হলে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। শিশুদের সুষম খাদ্য গ্রহণে অভ্যস্ত করে তুলতে পারলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হবে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন, কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং একটি সুস্থ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।