আলমডাঙ্গায় ‘নসিব ৪০৫৫’ ভুট্টা বীজে ফলন বিপর্যয় ৫০ কৃষকের ১৫০ বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ

আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর ও শ্রীরামপুর গ্রামে নসিব-৪০৫৫ নামের উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ভুট্টা চাষে ব্যাপক ফলন বিপর্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে আবাদ করা ভুট্টায় প্রত্যাশিত ফলন না হওয়ায় অন্তত ৫০ জন কৃষক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, একই এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে প্রায় একযোগে একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে গাছের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হলেও মোচা ছোট, দানা অপূর্ণ এবং অনেক ক্ষেত্রে শিষ ফাঁপা।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ইউনিফর্ম ফেলিওর সাধারণত বীজজনিত ত্রুটির ইঙ্গিত দিতে পারে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত মৌসুমগুলোতে একই জমিতে অন্য জাতের ভুট্টা চাষ করে তারা ভালো ফলন পেয়েছেন। কিন্তু চলতি মৌসুমে নসিব ৪০৫৫ ব্যবহার করে প্রায় সবাই একই সমস্যার মুখে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন—শ্রীরামপুর স্কুল পাড়ার কৃষক সুলতান (৫ বিঘা), জগন্নাথপুরের আব্দুর রহিম (আড়াই বিঘা), আজিজুল (২ বিঘা), হাসেম আলী (দেড় বিঘা), চতুর আলি, একরামুল, ওয়াদুদ, আলতাব, আমিরুল, শিমুল, লালু, জিয়ারুল, ঠান্ডু, বিল্লাল, তানজেল, আব্দুল্লাহ, রাজ্জাক, খলিল, তাহার, মানোয়ার, মতুর, হাসিবুল, রেজাউল, এমারুল, তাহের, আনারুল, ইউসুফসহ আরও অনেকে।
কৃষক সুলতান বলেন, শুরুতে গাছ ভালো ছিল, তাই আমরা আশা করেছিলাম ফলন ভালো হবে। কিন্তু শেষে দেখি মোচা ছোট, দানা নেই বললেই চলে। এখন খরচই উঠবে না।
স্থানীয়ভাবে বীজ সরবরাহকারী কৃষি পল্লী সিড কেন্দ্রের মালিক নাজমুল হুদা রাব্বি বলেন, আমি ময়মনসিংহ থেকে বীজ এনেছি। এটি উচ্চ ফলনশীল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিষয়টি কোম্পানিকে জানানো হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনা চলছে।
কৃষকদের অভিযোগ, তারা নসিব এগ্রো কেয়ার কোম্পানির বীজ ব্যবহার করেছেন। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বীজের মান, পরীক্ষণ ও বাজারজাত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
কৃষি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো বীজ বাজারজাতের আগে অনুমোদন, মান পরীক্ষা এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যকারিতা যাচাই বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে এসব প্রক্রিয়া কতটা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করা হয়েছে। এটি বীজজনিত সমস্যা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে—তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।