চুয়াডাঙ্গায় আজ শুক্রবার থেকে ফুয়েল কার্ডে তেল বিতরণ করা হবে জেলায় ৫০ হাজার ফুয়েল কার্ড বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় আজ শুক্রবার থেকে ফুয়েল কার্ডে তেল বিতরণ করা হবে। গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হয় ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম। চারদিনে জেলার ৪ উপজেলারয় ৫০ হাজার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে জেলা প্রশাসন থেকে কার্ড বিতরণ করা হলেও পরবর্তীতে জনগণের সুবিধার্থে উপজেলা পর্যায় কার্ড বিতরণ করা হয়। আজ শুক্রবার সকাল সকাল ৭টা থেকে জেলার ২২টি তেল পাম্পে ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করা হবে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে।
সরকার নির্ধারিত ‘ফুয়েল কার্ড’ ছাড়া কোনো গ্রাহক জ্বালানি তেল কিনতে পারবেন না। তবে কৃষকদের জন্য এক্ষেত্রে বিশেষ শিথিলতা রাখা হয়েছে। গত রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জ্বালানি তেলের মজুদ, পরিবহণ, বিপণন ও ব্যবহার সংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এদিকে জেলার চার উপজেলায় ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করার জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জেলায় মোট ৫০ হাজার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এর আগে জেলা প্রশাসনের সভায় জানানো হয়, ৩০ ও ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে যানবাহনের জন্য ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হবে। পরে আরও দুইদিন সময় বাড়িয়ে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারন করা হয়। ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। আগামী ৩ এপ্রিল থেকে শুধুমাত্র ফুয়েল কার্ডধারী যানবাহনেই জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তেল প্রদান করা হবে এবং প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার ২২টি পাম্পে একযোগে তেল বিক্রি চলবে। তেল সঠিকভাবে বিতরণ করা হয় সে জন্য পুলিশের পাশাপাশি প্রতিটি তেল পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক উজ জামান বলেন, ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানী সংগ্রহ শুরু হলে তেলপাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা রোধ করা যাবে। এমনকি কালোবাজির চেষ্টা যারা করছে তাদেরও নিয়মের মধ্যে আনা সম্ভব হবে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।
জেলার ২২ টি পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।  তারা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় মেসার্স বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে সদর উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপজেলা প্রশিক্ষক মিলন হোসেন, দৌলতদিয়াড় মেসার্স সুগন্ধা ফিলিং স্টেশনে বিআরবি অফিসের উপ-প্রকল্প কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান ও মেসার্স সীমান্ত ফিলিং স্টেশনে সদর উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের আনারুল ইসলাম,  মেসার্স চুয়াডাঙ্গা ফিলিং স্টেশনে উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার এস এম আবুল ফজল, মেসার্স ইমরান ফিলিং স্টেশনে সহকারি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলাউদ্দিন, মেসার্স মোজাম্মেল হক ফিলিং স্টেশনে সহকারি পলিল উন্নয়ন কর্মকর্তা মহিবুল ইসলাম, মেসার্স জোর্য়াদ্দার ফিলিং স্টেশনে উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার সোহেল আহমেদ, মেসার্স মামুন ফিলিং স্টেশনে সহকারি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অরিকুল ইসলাম,  মেসার্স হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনে সদর উপজেলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা  সাজ্জাদ হোসেন, মেসার্স মনিরুল ইসলাম এলপিজি এন্ড ফিলিং স্টেশনে, উপসহকারি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, মেসার্স দর্শনা ফিলিং স্টেশনে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলায় চুয়াডাঙ্গা হক ফিলিং স্টেশনে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন, উত্তরা ফিলিং স্টেশনে সহকারি প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ, এনামুল হক ফিলিং স্টেশনে কৃষি সঞ্চারণ অফিসার সাইযুল্লাহ মাহমুদ।
দামুড়হুদা উপজেলায় মেসার্স কে, এম, ফিলিং স্টেশনে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রফিকুল ইসলাম,  মেসার্স দামুড়হুদা ফিলিং মেসার্স উপসহকারি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, এম, এম, ফিলিং স্টেশনের উপসহকারি প্রকৌশলী জি এম মেহেদী হাসান।  
জীবননগর উপজেলায় জীবননগর ফিলিং স্টেশনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহ আলম,  নাসিম ফিলিং স্টেশন সহকারী পট্টী জায়ন কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম, পিয়াস ফিলিং স্টেশনের অফিসার উপ্যাল নুরুজ্জামান, উৎসব ফিলিং স্টেশনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, এখন ফিটিং স্টেশনের উপজেলা কৃষি অফিসার সামাউল হোসেন।
দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসারদের দায়িত্ব ও কর্মপরিধি নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত দায়িত্ব অনুযায়ী, ট্যাগ অফিসারদের প্রতিদিন ফিলিং স্টেশনের প্রারম্ভিক মজুদ রেকর্ডভুক্ত করতে হবে এবং ডিপো থেকে সরবরাহ করা জ্বালানি তেল সরাসরি উপস্থিত থেকে পরিমাপ করে গ্রহণ করতে হবে। এ সময় পে-অর্ডার, ডিপোর চালান বা রিসিটের সঙ্গে সরবরাহ করা তেলের পরিমাণ মিলিয়ে দেখার পাশাপাশি ডিপ-রড বা ডিপ-স্টিকের মাধ্যমে বাস্তব মজুদ যাচাই করতে হবে। এ ছাড়া, ডিপো থেকে দৈনিক তেল গ্রহণের হিসাব যথাযথভাবে রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ হয়েছে কি না, তা নিয়মিত মনিটর করার নির্দেশনা রয়েছে। ফিলিং স্টেশনের ডিসপেন্সিং মেশিনের দৈনিক মিটার রিডিং পর্যালোচনা করে বিক্রয়ের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা এবং প্রতিদিনের বিক্রয় শেষে সমাপনী মজুদ যাচাই করাও ট্যাগ অফিসারদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, ডিসপেন্সিং মেশিনের পরিমাপ সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনের অনুমোদিত লে-আউট প্ল্যানে উল্লিখিত মজুদক্ষমতা এবং বাস্তব মজুদের তথ্য যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে স্টেশনের আশপাশে কোনো অননুমোদিত ট্যাংক বা স্থাপনা রয়েছে কি না, তা-ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার আওতায় থাকবে।
সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ করতে ডিপো থেকে পাম্প এবং পাম্প থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে দৃশ্যমান করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি ডিপো, ট্যাংকার, পাম্প এবং খুচরা বিক্রির তথ্য সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিটি পাম্পে দিনে অন্তত তিনবার সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় স্টক আপডেট বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, ডিপো থেকে জ্বালানি গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খুচরা বিক্রি শুরু না হলে তা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ, তেল গ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শুরু করতে হবে। এ নিয়ম ভঙ্গ করলে প্রথমবার সতর্কতা, দ্বিতীয়বার মোবাইল কোর্ট এবং তৃতীয়বার সাময়িক স্থগিতাদেশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  এ ছাড়া, পাম্প খোলা থাকা, স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণ, ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন, ক্যাশ মেমো প্রদান, নির্ধারিত সীমা অনুসরণ, কনটেইনারে অবৈধ বিক্রি প্রতিরোধ এবং সারি ব্যবস্থাপনার অবস্থা—এসব বিষয় জিও-ট্যাগ প্রমাণসহ নিয়মিত রিপোর্ট করতে হবে ট্যাগ অফিসারদের।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।