স্টাফ রিপোর্টার
বসন্তের বিদায়ঘণ্টা বাজতে না বাজতেই বৈশাখের রুদ্ররূপ ধারণ করেছে চুয়াডাঙ্গার আকাশ। এপ্রিলের প্রথম দিনেই এ জেলায় শুরু হয়েছে মৃদু তাপপ্রবাহ। তীব্র রোদে আর গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। প্রতিবছরই চুয়াডাঙ্গাতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজমান হয়। এবছর বৈশাখ মাস না আসতেই জেলায় ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
গতকাল বুধবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই মৌসুমের হিসেবে একটি মৃদু তাপপ্রবাহ। সেই সাথে বাতাসের আদ্রতা ছিল ৩৮ শতাংশ। বেলা বাড়ার সাথে সাথেই পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে রোদের তীব্রতা। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে যায় এবং দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চুয়াডাঙ্গায় গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রার পারদ অন্যান্য জেলার তুলনায় কিছুটা বেশি থাকে। বর্তমানে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি আরও প্রকটভাবে অনুভূত হচ্ছে।
রাস্তার পাশে ডাব বিক্রেতা আনিস মিয়া বলেন, হঠাৎ করেই আজকে চুয়াডাঙ্গাতে খুব বেশি পরিমাণে গরম পড়েছে। সকাল থেকেই রোদের তীব্রতা খুব বেশি মনে হচ্ছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকে বেচা বিক্রিও বেশ ভালো। এই গরমে ডাবের চাহিদাও বেশি। তবে রাস্তার পাশে এই গরমে ডাব বিক্রি করতে একটু কষ্টই হচ্ছে।
কৃষক আব্দুল আউয়াল বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকের গরমটা একটু বেশি ছিল। সকাল আটটার সময় মাঠে কাজ করতে গেছি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে তীব্র গরম অনুভূত হয়। এই গরমে মাঠে কাজ করা বেশ কষ্টদায়ক। অন্যান্য দিন দুপুর ১ পর্যন্ত কাজ করলেও আজকে বেলা সাড়ে ১১ টার মধ্যেই মাঠ থেকে বাড়ি চলে এসেছি। তাই মাঠের কাজ সম্পন্ন করে আসতে পারিনি। এখনতো যতদিন যাবে তত গরম বাড়তেই থাকবে তাই আমাদের কষ্টও বাড়বে। এই তীব্র গরমে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইন ও তরল খাবার গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া সরাসরি রোদে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, আগামী কয়েকদিন এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই, ফলে গরমের তীব্রতা আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।
এপ্রিলের প্রথম দিনেই চুয়াডাঙ্গা মৃদু তাপপ্রবাহের কবলে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড



