জীবননগরে ফুয়েল কার্ড নিতে দীর্ঘ লাইন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর কার্ড হাতে পেয়ে স্বস্তি

জীবননগর অফিস
জীবননগর উপজেলা জেলায় ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উপজেলা পর্যায়ে শুরু হওয়ায় জীবননগরে মানুষের ঢল নেমেছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকেই উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায় বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা যানবাহন মালিক ও চালকদের।
সকাল ১০টা থেকে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়। বিকাল ৪টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
ফুয়েল কার্ড নিতে আসা আরিফুল ইসলাম বলেন, “সকাল ৭টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে এসেছি। কাগজপত্র জমা দিতে অনেক সময় লেগেছে। এখন আবার নির্দিষ্ট সময়ে কার্ড নিতে বলা হয়েছে। পুরো দিনই কাজ বন্ধ রাখতে হলো।”
আসাদুর রহমান নামের আরেক আবেদনকারী বলেন, “আমার হার্টের সমস্যা আছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কষ্টকর। তবুও প্রয়োজনের তাগিদে দাঁড়িয়ে আছি।”
স্কুল শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন জানান, “আমার বাড়ি প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে। ডিসি অফিসে গিয়ে কার্ড নেওয়া খুবই কষ্টসাধ্য ছিল। উপজেলা পর্যায়ে কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “মানুষের সুবিধার্থে জীবননগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চারটি বুথের মাধ্যমে কাগজপত্র যাচাই ও জমা নেওয়া হচ্ছে। পৃথক বুথ চালুর ফলে কিছুটা ভোগান্তি কমেছে। মঙ্গলবার প্রায় দুই হাজার কার্ড বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সময়সীমা আরও দুই দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। যারা আজ কার্ড নিতে পারবেন না, তারা পরবর্তী দিন সংগ্রহ করতে পারবেন।”
দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিকাল ৪টা থেকে কার্ড হাতে পেয়ে অনেকের মুখে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, “ফুয়েল কার্ড যেন সোনার হরিণ।” তবে কার্ড পাওয়ার পরও পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।