হাজার বছরের ইতিহাসের সাক্ষী আলমডাঙ্গার ঘোলদাড়ি শাহী জামে মসজিদ

স্টাফ রিপোর্টার
জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের ঘোলদাড়ি গ্রামে অবস্থিত ‘ঘোলদাড়ি শাহী মসজিদ’। স্থাপত্যশৈলী আর প্রাচীন কারুকাজে ঘেরা এই মসজিদটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। এই মসজিদটি হাজার বছরেরও বেশি পুরনো বলে এলাকার মুরব্বিরা জানায়।
স্থানীয়দের ধারণা সম্ভবত ১০০৬ (বাংলা ৪১৩ সন) সালের দিকে হজরত খাইরুল বাসার ওমজ (রহ.) ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ঘোলদাড়ী গ্রামে মসজিদটি নির্মাণ করেন। ইতিহাসবিদদের মতে, ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির নদীয়া বিজয়ের অনেক আগে ঘোলদাড়ী মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে আজো দাঁড়িয়ে আছে এ মসজিদ।
প্রথম শতাব্দীর কোনো এক সময় হজরত খাইরুল বাসার ওমজ (রহ.) নদীপথে আলমডাঙ্গায় আসেন। আসার সময় ঘোলদাড়ী এলাকায় শেষ হয় নদীর কূল। তখন ঘোলদাড়ী এলাকায় কিছু বাড়িঘর ছিল। ইসলাম প্রচারের জন্য ঘোলদাড়ী গ্রামে আস্তানা গড়েন তিনি। এখান থেকেই তিনি ইসলাম প্রচার-প্রসারের কাজ শুরু করেন। এ সময় তিনি এ গ্রামে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। এটিই বর্তমানে ঘোলদাড়ী জামে মসজিদ হিসেবে পরিচিত। হজরত খাইরুল বাসার ওমজের (রহ.) মৃত্যুর পর এ মসজিদ প্রাঙ্গণেই তাকে দাফন করা হয়।
মসজিদটি মোঘল আমলের স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত। এটি বর্গাকার এবং এর প্রতিটি দেয়াল বেশ পুরু। মসজিদের উপরিভাগে তিনটি গম্বুজ এবং চার কোণে চারটি মিনার রয়েছে। লাল ইট ও চুন-সুরকির মিশেলে তৈরি এই মসজিদের দেয়ালে বিভিন্ন ফুল ও লতাপাতার নকশা খোদাই করা রয়েছে, যা তৎকালীন কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ার পরিচয় দেয়। মূল মসজিদের মিনারের সাথে দুইটি কাতার। সেই দুই কাতারে ২০/২৫ জন মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারতেন। তবে পরবর্তীতে এতে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। কয়েক দফায় মসজিদটি পুণনির্মাণ করা হয়েছে। লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, এই মসজিদটি একদিনেই অলৌকিকভাবে নির্মিত হয়েছিল। মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় একটি প্রাচীন দিঘি রয়েছে, যা পর্যটকদের নজর কাড়ে।
মসজিদের মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ আইনুদ্দিন বলেন, ১০০৬ সালের দিকে মোহাম্মদ খাইরুল বাশার নামে একজন ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির সেই পুরনো অবকাঠামো এখনো থাকলেও পরবর্তীতে আরো কিছু সংস্কার করা হয়েছে। মসজিদটির পুরনো অংশে দুইটি সারিতে ও কিছু সংখ্যক লোক পূর্বে নামাজ পড়তে পারলেও এখন মসজিদটিতে প্রায় শতাধিক মানুষ  একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। প্রতি শুক্রবারে মসজিদটিতে অনেকে মান্নত করে থাকেন। জুম্মার নামাজ আদায়ের জন্য দুর – দুরান্ত থেকে নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে আসেন। অনেকে ধারণা করেন মসজিদটি এক রাতে জ্বীনদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু এই তথ্যটি সঠিক নয়, মসজিদটি এক রাতে তৈরি হয়নি।
ঘোলদাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মিনারুল ইসলাম বলেন, মসজিদটি অনেক প্রাচীন হওয়ায় অনেক দূরদূরান্ত থেকে লোকজন দেখতে আসেন। এর স্থাপত্যশৈলী অনেক প্রাচীন দেখে অনেকের মাঝে ভুল ধারণা জন্মেছে যে মসজিদটি এক রাতে তৈরি। তবে মসজিদটির কারুকাজ অনেককেই মুগ্ধ করে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।