স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল চালকদের জ্বালানি তেল নিয়ে চরম হাহাকার দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল সংগ্রহ করতে আসা মানুষের ভিড় ও দীর্ঘ লাইন এখন নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন, যা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ভোর রাত থেকে শুরু করে দাঁড়িয়ে থাকছেন সন্ধ্যা পর্যন্ত তবুও মিলছে না কাঙ্খিত সেই জ্বালানি তেল। পাম্প মালিকদের দাবি চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না পাওয়ায় গ্রাহকদের মাঝে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। যার কারণে অনেকে চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণে তেল ক্রয় করছেন। আবার অনেকেই অভিযোগ করে বলছেন বাইকাররা মোটরসাইকেল তেল ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মজুদ করে রাখছেন। এতে করে বাজারে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।
সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকে মোটরসাইকেল চালকরা পাম্পে গিয়ে লাইন দিচ্ছেন। কয়েক ঘন্টা না যেতেই সেই লাইন কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে যাচ্ছে। দুপুরের তীব্র গরমে ঘন্টার পর ঘণ্টা তেল ক্রয়ের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। কৃষিকাজে ব্যবহৃত সেচ পাম্পের জন্য ডিজেল নিতে আসা কৃষকদেরও ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল শেষ হওয়ার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। যাদের খুবই জরুরী ভিত্তিতে জ্বালানি তাদের প্রয়োজন তারাও তেল না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
তেল নিতে আসা এক মোটরসাইকেল চালক আব্দুল গাফফার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তিন ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গরমে অবস্থা খারাপ, অথচ পাম্পের কাছে পৌঁছানোর আগেই জানানো হলো তেল শেষ। প্রতিদিন এভাবে সময় নষ্ট হলে আমাদের কাজ চলবে কীভাবে? আমরা যাদের সত্যি তেল প্রয়োজন তারা তেল নিতে পারছি না এদিকে অনেকেই তেল ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তেল বোতলে করে ভরে রাখছেন। পরবর্তীতে এই তেল হয় নিজের মোটরসাইকেলের ব্যবহার করছেন নতুবা অন্য জনের কাছে বিক্রয় করছেন। এভাবে চলতে থাকলে তেলের এই সংকট কোনোভাবেই দূর করা সম্ভব নয়।
জ্বালানি সংকটের বিষয়ে ডিঙ্গেদহ হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জাকিরুল ইসলাম জানান, চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ অনেক কম। ডিপো থেকে নিয়মিত বরাদ্দ না পাওয়ায় তারা গ্রাহকদের পর্যাপ্ত তেল দিতে পারছি না। গত কয়েকদিন যাবত পেট্রোল তেল দেওয়া বন্ধ রয়েছে। গতকালকে ২ হাজার লিটার অকটেন ও সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল তেল বরাদ্দ পেয়েছি। যা গ্রাহক চাহিদার তুলনায় খুবই কম। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্যা সমাধানের কোনো সহজ পথ নেই।
চুয়াডাঙ্গায় বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল কিনতে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে তেল মজুদের অভিযোগ



