দর্শনা অফিস
দর্শনায় প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুলকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দর্শনা প্রেসক্লাব ও দর্শনা সাংবাদিক সমিতি। এ ঘটনায় শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দর্শনা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে রোববার (১৫ মার্চ) দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
দর্শনা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিক ও প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর এমন মারমুখী আচরণ, লাঞ্ছনা ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুধু একজন ব্যক্তির প্রতি নয়, বরং পুরো সাংবাদিক সমাজের প্রতি অবমাননার শামিল। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ; তাদের সঙ্গে এমন আচরণ ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটানোর বহিঃপ্রকাশ।
বক্তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি ও আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল জানান, শনিবার বিকেলে দর্শনা পুরাতন বাজার এলাকার মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে টুটুল শাহসহ কয়েকজন এক কিশোরকে চুরির সন্দেহে আটক করে শ্যামপুর গ্রামের ইমন নামের এক কিশোরকে মারধর ও নির্যাতনের পর দর্শনা থানায় সোপর্দ করে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও তিনি নিজে থানায় গেলে দেখা যায়, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি। এ অবস্থায় মুচলেকা নিয়ে পুলিশ ওই কিশোরকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টুটুল শাহ, তার ভাই ওয়াহিদ শাহ, চাচা বকুল শাহসহ কয়েকজন তাকে মোবাইল ফোনে দর্শনা পুরাতন বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে ডেকে নেয়। সেখানে কিশোরকে মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে তারা তার ওপর চড়াও হয়ে মারমুখী আচরণ করে এবং ধাক্কাধাক্কির মাধ্যমে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ঘটনার পরপরই দর্শনা প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা জরুরি সভা করে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জরুরি সভায় উপস্থিত ছিলেন দর্শনা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি চঞ্চল মেহমান, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান যুদ্ধ, প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসমত আলী মাস্টার, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু, জাহিদুল ইসলাম, হানিফ মণ্ডল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব মামুন, ফরহাদ হোসেন, রাজিব মল্লিক, ওয়াসিম রয়েল, ইমতিয়াজ রয়েল, আব্দুল হান্নান, মাহমুদ হাসান রনি, সুকুমল চন্দ্র বাধন, আবিদ হাসান রিফাত, সাব্বির আলিমসহ প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা।
দর্শনা প্রেসক্লাব সভাপতিকে লাঞ্ছনার অভিযোগে জরুরি সভায় তীব্র নিন্দা



