চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস পালিত

স্টাফ রিপোর্টার
‘আর নয় শব্দদূষণ, চাই সুস্থ জীবন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এক শোভাযাত্রা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের আওতায় পরিবেশ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় এই কর্মসূচির আয়োজন করে। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব এবং তা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।
শোভাযাত্রা শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সহকারী কমিশনার আশফাকুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক নয়ন কুমার রাজবংশী।
সভায় জানানো হয়, বিশ্ব জনসংখ্যার মোট ৫ শতাংশ শব্দদূষণের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৩০টি কঠিন রোগের কারণ সমূহের মধ্যে শব্দদূষণ অন্যতম। জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ মাত্রা ৪৫-৬০ ডেসিবেল। ৫০ ডেসিবেলের উচ্চ শব্দ উচ্চরক্তচাপের কারণ। ৬৫ ডেসিবেলের উচ্চ শব্দ হৃদরোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী। ৯০ ডেসিবেলের অধিক শব্দ স্নায়ুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ১০০ ডেসিবেলের উচ্চ শব্দ মানুষের শ্রবণ শক্তি ধ্বংস করে বধির করে দেয়। গর্ভবতী নারী দীর্ঘ সময় শব্দদূষণের মধ্যে অবস্থান করলে সন্তান বধির হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ১২০-১৩০ ডেসিবেল শব্দে ১৫ মিনিটের বেশি অবস্থান করলে স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতা নষ্ট হতে পারে। ১০৫-১১০ ডেসিবেল শব্দে ৫ মিনিটের বেশি অবস্থান করলে শ্রবণ ক্ষমতা নষ্ট হতে পারে। ১০০ ডেসিবেল শব্দের মধ্যে ১৫ মিনিটের অবস্থানেই শ্রবণ ক্ষমতার ক্ষতি হতে পারে।
সভায় আরো জানানো হয়, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল এলাকায় শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা থাকে ৭০.৭ ডেসিবল, চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজের সামনে শব্দের মাত্রা থাকে ৬৭ ডেসিবল, চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে শব্দের মাত্রা থাকে ৬৯.৬ ডেসিবল, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার সামনে শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা থাকে ৭২.৩ ডেসিবল এবং রাফিদ পোল্ট্রি ফিডের সামনে শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা থাকে ৭৮.৯ ডেসিবল।
প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, বর্তমান সময়ে শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো এবং যত্রতত্র মাইক ব্যবহারের ফলে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাসসহ বিভিন্ন মানসিক ও শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমেই এই দূষণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, টিআই অ্যাডমিন আমিরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দসহ চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা মন্ডলী ও শিক্ষার্থীরা।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।